রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে চীন, জাপান এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা দরকার। কারণ মিয়ানমার মনে করে—এই তিনটি দেশ তাদের পকেটে রয়েছে। এই তিন দেশকে বাংলাদেশের বোঝাতে হবে যে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে, তাদেরও ক্ষতি হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন এ ‘রোহিঙ্গা সংকট : টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ একথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ, একশন এইড ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মোটেই আন্তরিক নয়। রোহিঙ্গাদের পৃথিবীর যে কোনো নিরাপদ জায়গায়ই নিয়ে যাওয়া হোক না কেন মিয়ানমার সরকার যদি তাদের আইন পরিবর্তন না করে তাহলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব হবে না। মিয়ানমারে কারা বিনিয়োগ করছে, কারা নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করছে এবং লাভজনক ব্যবসা করছে তা চিহ্নিত করা দরকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস-এর নির্বাহী পরিচালক এবং একশন এইড বাংলাদেশ-এর চেয়ারপারসন মঞ্জুর হাসান ওবিই বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি জানাতে হবে। মিয়ানমারে সংঘটিত গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্তে আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে জোর দিতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (এশিয়া ও প্যাসিফিক) মাহবুব উজ জামান বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হওয়ার পরও আশানুরূপ প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হচ্ছে না। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থা (আসিয়ান)-এর সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত।
কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনয়েট প্রিফনটেইন বলেন, নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারের আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ড. সৈয়দ রিফাত আহমেদ বলেন, যখন প্রথম গণ-অনুপ্রবেশ শুরু হয় তখন বাংলাদেশ জরুরি সাড়া প্রদান করে। এখন বস্তুগত সাহায্য ছাড়াও টেকসই সমাধানের দিকে জোর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম, একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির প্রমুখ।
