আশুলিয়ায় মাদকের হোম ডেলিভারি!

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০৮

সাভার উপজেলার আশুলিয়া অঞ্চলটি মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ঘরে বসে অর্ডার করলেই মিলছে মাদকের হোম ডেলিভারি। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার, গাঁজাসহ সকল প্রকার মাদকে সয়লাব এ এলাকাটি। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক অধ্যুষিত এ জনপথটিতে বিভিন্ন পেশার আড়ালে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে ছদ্মবেশে। এছাড়া দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে প্রতিনিয়তই বিপুল পরিমাণ মাদক  দ্রব্যের চালান এসে জমা হয় আশুলিয়াতে। পরে তা একাধিক মাদক ব্যবসায়ী চক্রের হাত ঘুরে ঢুকে যাচ্ছে রাজধানীতে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী চক্র এখন ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়ককে তাদের মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আর আশুলিয়াকে ব্যবহার করছে  মাদক ব্যবসার পাইকারী বাজার হিসেবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আশুলিয়ার বড় দুটি বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কের সামনে অবাধে চলছে ইয়াবা ব্যবসা। বর্তমানে যেকোনো মাদকের তুলনায় ইয়াবার চাহিদা ব্যাপক। ফলে আগে যারা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে বেড়াত তারা এখন ইয়াবা ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তাই এখানে ইয়াবা ব্যবসার প্রসার বেড়েছে। মাদক ব্যবসা এমন মাত্রায় পৌঁছে গেছে যে, জায়গায় বসে অর্ডার করলেই মিলছে মাদকের হোম ডেলিভারি। ছোট ট্যাবলেট হওয়ায় অতি সহজেই প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তা সরবরাহ করা যাচ্ছে। আর এ কাজে ব্যবহূত হচ্ছে নারী ও অল্প বয়সী যুবকরা। ফলশ্রুতিতে ইয়াবায় সয়লাব হয়ে পড়েছে গোটা আশুলিয়ার অলিগলি। নানা কৌশলে কখনও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে, আবার কখনও তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন জায়গায় চলছে, এসব মাদক বিক্রির মহাউত্সব।

গত বুধবার আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকা থেকে ৫শ পিস ইয়াবাসহ মাহমুদ মামুন নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, আটক মামুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার চালান সরবরাহ করত। এছাড়া খুচরা বিক্রেতা হিসেবে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে হোম ডেলিভারি দিত। বুধবারও সে হোম ডেলিভারি দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।  শুধু ইয়াবাই নয়, হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ফেন্সিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার, গাঁজা। মাদকের এমন ভয়াবহ বিস্তারের ফলে আশুলিয়া যেন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদকের মরণ ছোবলে। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, যুবক, ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস কর্মীর পাশাপাশি নারীরাও এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। আবার এলাকার অনেক তরুণ যুবক ও নারী মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের অনেকেই জড়িত। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে রয়েছে এদের সুসম্পর্ক।

 একটি সূত্র জানায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ মালামাল নির্বিঘ্নে ঢুকে পড়ছে। এক শ্রেণির পরিবহন শ্রমিক ও বেকার যুবক পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপঢৌকন কালেকশন করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। আশুলিয়ায় বেশকিছু শ্রমিক কলোনী ঘুরে দেখা গেছে- প্রকাশ্যেই খোলা স্থানে চলছে লেনদেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতা জানান, অভিযানের ভয় খুব কম। প্রশাসনকে ম্যানেজ করা আছে। মাস শেষে টাকার ভাগ যায় নানা জায়গায়। সেটা ঠিক থাকলেই কেউ আর সারা মাসে ব্যবসায় ডিস্টার্ব করতে আসে না। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

সাভার সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ রুবেল মির্জাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের বক্তারপুর মহল্লার বেদে পল্লী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ছাত্রলীগ নেতার শরীর তল্লাশি করে ১২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে শারমিন আক্তার নামের এক নারীকেও গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।