সফল জুটির গল্প

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২২

একজন অভিনয়শিল্পীকে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে যতটা কষ্ট করতে হয়, তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয় সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে। জনপ্রিয় একজন শিল্পীর কাছে দর্শকদের প্রত্যাশার মাত্রা দিনকে দিন বাড়তে থাকে—কথাটি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন আরফান নিশো। নিজের অর্জিত অবস্থানকে ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরো সমৃদ্ধ করতে তিনি এখন নিজের ভাবনা ও কাজের ধারা পাল্টে ফেলেছেন। প্রথমেই মুখ খুললেন নিশো। মৃদু হেসে তিনি বলেন, ‘আর্টিস্টরা আসলে একটু লোভী প্রকৃতির হয়। একটি চরিত্রে কাজ করার পর মনে হয় ওই চরিত্রে যদি কাজ করতে পারতাম। চরিত্র চুজিংয়ের কোনো শেষ নেই। আমরা অনেকটা নিডি টাইপের। আমি এখন ভিন্ন চরিত্র কাজ করতে আগ্রহী। আনকমন, অফট্র্যাকের কিছু স্ক্রিপ্ট আমি খুঁজছি। যে স্ক্রিপ্টে ইমোশন আছে; ট্র্যাজেডি, রোমান্স, বেসিক্যালি রিয়েলিটি আছে। দুজন ছেলেমেয়ে কাছাকাছি হলো। একে অপরকে ফুল দিল। তাদের প্রেম হলো। এ ধারার কাজের প্রতি আমি মনোযোগী নই। আমার দর্শকরাও নিশ্চয়ই আমার কাছে এখন ভিন্নধর্মী কাজ আশা করেন।’ এবার তানজিন তিশার বলার পালা। তিনি বলেন, ‘আমি বরাবরই চরিত্রের ব্যাপারে একটু চুজি। অভিনয়ের জায়গা আছে, এমন চরিত্রে কাজ করতে ভালো লাগে। একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে যতটা শ্রম দিতে হয়, তা দিতেই দিতে চেষ্টা করি। কোনো চরিত্রে অভিনয় করে যদি নিজেই সন্তুষ্ট হওয়া না যায়, তবে তা কখনো দর্শকের মন জয় করতে পারে না।’ একটি ধারাবাহিক নাটকে ভাইবোনের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে প্রথম একসঙ্গে কাজ করেন নিশো ও তিশা। পরে তারা টানা তিনটি নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। আফরান নিশোর সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে তানজিন তিশা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজের সময় যারা সহযোগিতা করেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে ভালো লাগে। সেই বিবেচনায় নিশো ভাইয়ার সঙ্গেও কাজ করতে ভালো লাগে। তার সঙ্গে কাজ করতেও আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ এবার নিশো বলেন, ‘নিঃসন্দেহে তিশা একজন ভালো অভিনেত্রী। কাজের প্রতি তার ভালোবাসা আছে। সে চেষ্টা করে চরিত্রটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে। আর কো-আর্টিস্ট হিসেবেও সে সহযোগিতাপরায়ণ। তাই তো জুটি হয়ে তার সঙ্গে অভিনয় করে ভালো লাগে।’

নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জুটি প্রথা টিভি নাটকে তার দাপট ষোলআনা প্রদর্শন করতে সমর্থ হয়। জাহিদ হাসান-শমী কায়সার, টনি ডায়েস-আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ-বিপাশা হায়াত জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল এসব জুটি। নব্বইয়ের শেষে এসেও মাহফুজ-তারিন জুটি নিয়ে বেশ মাতামাতি ছিল। কিন্তু তারপরই ধীরে ধীরে ছোট পর্দায় জুটি প্রথা ফিকে হতে থাকে। সেই সঙ্গে বেশি সংখ্যক দেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলের আত্মপ্রকাশের ফলে নাটক তখন নির্মিত হতে থাকে সংখ্যাতত্ত্বকে সামনে রেখে। তাই শিল্পী সঙ্কট জুটি প্রথাকে ভেঙেচুরে একাকার করে দেয়। নামি দুজন তারকাকে এক ফ্রেমে বন্দি করার নামই তখন হয়ে দাঁড়ায় ‘জুটি’। জুটির চেয়ে নাটকের দর্শকপ্রিয়তার দিকেই এখন বেশি মনোযোগ নির্মাতাদের। ইদানীং জুটি প্রথা নিয়ে ভাবতে রাজি নন নির্মাতারা। তাদের গল্প অনুযায়ী তারকা নেওয়ার প্রতি ঝোঁক থাকে। তারকাদের ব্যস্ততার কারণে সেই জায়গায় সবসময় সফল না হলেও কোনো একটা জুটি নিয়ে ঠিকই কাজ বেরিয়ে আসে। ফলে জুটির জন্য দর্শকের আকুতি থেকেই যায়। এই সময়ে আশি-নব্বই দশকের মতো জনপ্রিয় জুটির কথা বলতে গেলে বলা যাবে না কোনো জুটির নামই। জুটি তৈরি হচ্ছে অনেক। কিন্তু তাতে সচেতনতার অভাব থাকছে। ফলে কালজয়ী জুটি পাওয়া যাচ্ছে না। হালের সফল জুটির কথা বলতে গেলে বলতে হবে নিশো-তিশার নাম। সংখ্যার দিক থেকে এই জুটির নাটক বেশি নয়। কিন্তু আলোচিত হয়েছে বেশ কয়েকটি নাটক। সম্প্রতি নিশো ও তিশা অভিনীত মাহিদুল মাহিমের পরিচালনায় ‘মোবাইল চোর’, মোস্তফা কামাল রাজের ‘থ্যাঙ্ক ইউ’, অমির ‘লাইফম্যাট’ও দর্শকের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায়। গত রোজার ঈদে কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘দ্য এন্ড’ নাটকটিও বেশ সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে কোরবানির ঈদে একই পরিচালকের নির্দেশনায় তারা ‘মি অ্যান্ড ইউ’ নাটকে অভিনয় করেন। নাটকটি রচনা করেছেন নির্মাতা নিজেই। নাটকের গল্পে ভিন্নতা, নির্মাণশৈলীতে নতুনত্ব এবং আফরান নিশো ও তানজিন তিশার অনবদ্য অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক।