আওয়ামী লীগের কাছে অন্তত ১০টি আসনের দাবি জানিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনটিতে ছাড় পেয়ে ক্ষুব্ধ বিকল্পধারা ও দলটির নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। দর কষাকষির পর বিকল্পধারা যেই তিনটি আসনে ছাড় পেয়েছে সেগুলো হলো— দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান (লক্ষ্মীপুর-৪) এবং দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি. চৌধুরী (মুন্সীগঞ্জ-১) ও এমএম শাহীন (মৌলভীবাজার-২)। নিজেদের দলীয় প্রতীক ‘কুলা’র পরিবর্তে তারা তিনজনই আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ‘নৌকা’ প্রতীক বরাদ্দের জন্য তারা গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি নিয়েছেন।
মাত্র তিনটি আসনে ছাড় পাওয়ায় হতাশ যুক্তফ্রন্ট। বিকল্পধারাকে তিনটি আসন দেওয়া হলেও যুক্তফ্রন্টের অন্য কোনো শরিককে আসন দেওয়া হয়নি। মহাজোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের আসন বণ্টনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক গোলাম সারোয়ার মিলন গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যুক্তফ্রন্টে অনেক যোগ্য ও জয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী থাকলেও মাত্র তিনজনকে মহাজোটের মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা বিস্মিত। উপরোক্ত বিষয়ে বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে মহাজোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিতাপের বিষয় প্রত্যাশিত সাক্ষাত্কারটি এখনও হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী ৮ ডিসেম্বর শনিবার বিকাল চারটার মধ্যে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অন্যথায় বিকল্পধারার মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দল ও জোটের করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন।’
বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা গতকাল ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর-দক্ষিণ মানিকগঞ্জ) আসনে গোলাম সারোয়ার মিলন, সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে এইচএম গোলাম রেজা ও নীলফামারী-১ আসনে যুক্তফ্রন্ট শরিক বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণিকে মহাজোটের মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছেন বি. চৌধুরী।
