ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এইবারের জি ৭ সম্মেলনে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না হইলেও, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নিজ কূটনৈতিক তত্পরতায় দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ তথা আমেরিকা ও ইরানকে সংলাপে বসাইবার একটি আবহ তৈরি করিবার মাধ্যমে সম্মেলনটিকে কিছুটা হইলেও তাত্পর্যপূর্ণ করিয়া তুলিয়াছিলেন। অবশ্য ইরানের দিক হইতে সংলাপের সম্ভাবনাকে প্রথমে সমর্থন ও পরবর্তী সময়ে প্রত্যাখ্যানের কারণে ম্যাক্রোঁর চেষ্টা সফল হয় নাই।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলিতে গেলে অনেকটা আচমকাই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জাফরিকে জি ৭ সম্মেলনে হাজির করেন। ইহা ছাড়াও তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহিত একান্তে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বলেন। অতঃপর যৌথ সাংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও ম্যাক্রোঁ উভয়ে আমেরিকা-ইরান সংলাপের সম্ভাব্যতা বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সহিত সংলাপের ‘সত্যিকার ভালো একটি সম্ভাবনা’ আছে বলিয়া মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এই ধারাবাহিকতাতে রুহানিও সংলাপের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান বলিয়া গ্রহণ করেন। ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করিয়া তিনি জানান, কাহারো সহিত বৈঠক বা সাক্ষাত্ হইতে দেশের উন্নয়ন বা সমস্যা নিরসনের কোনো সম্ভাবনা থাকিলে তিনি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাইতে ইচ্ছুক। এমনকি এই সম্ভাবনা ‘২০ বা ১০ শতাংশ’ হইলেও সেই সম্ভাবনা নষ্ট করিতে চাহেন না বলিয়া জানান রুহানি। উল্লেখ্য, পরমাণু প্রকল্পবিষয়ক মতানৈক্যকে কেন্দ্র করিয়া আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলিতেছে। কিছুদিন পূর্বে ইরান সমস্যার সমাধানে গঠিত পশ্চিমা জোট হইতে ট্রাম্প কর্তৃক আমেরিকাকে প্রত্যাহার করাইবার পর হইতে দুই দেশের মতবিরোধ চরমে উঠিয়াছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক মন্তব্যের পরে আন্তর্জাতিক মহলে আশাবাদ সৃষ্টি হইলেও, সামান্য সময়ের ব্যবধানে তাহা আবার মিলাইয়া গিয়াছে। সোমবার পূর্ববর্তী বক্তব্য হইতে পুরাপুরি সরিয়া আসিয়া রুহানি জানান, তিনি কাহাকেও ফটোসেশন করিবার সুবিধার জন্য কোনো ধরনের বৈঠকে বসিতে ইচ্ছুক নন। ধারণা করা হইতেছে যে, ইরানের ক্ষমতাসীন মহলের মধ্যেকার কট্টর আমেরিকাবিরোধী অংশটির চাপের মুখে নিজের প্রথম বক্তব্য হইতে সরিয়া আসিতে বাধ্য হইয়াছেন রুহানি। উল্লেখ্য, ইরানের সমস্যা নিরসনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হইলে পশ্চিমাদের সহিত সকল বোঝাপড়া হইতে সরিয়া আসিয়া পুনরায় পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের পথে হাঁটিতে শুরু করিবে বলিয়া জানাইয়া রাখিয়াছে দেশটি। উল্লেখ্য, রুহানি ও তাহার সমর্থকেরা পশ্চিমাদের সহিত আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দেশের উপরে আরোপিত নানাপ্রকার অবরোধ হইতে বাহির হইতে চাহেন বলিয়া প্রতীয়মান হইলেও, ক্ষমতাসীন মহলের কট্টর আমেরিকাবিরোধী অংশটি এইক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে অনিচ্ছুক। এমতাবস্থায় আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক সামনের দিনগুলিতে কোথায় যাইয়া দাঁড়ায় তাহা দেখিবার বিষয়। এইসবের বাহিরে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মতন দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্র আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কোন্নয়নকে কোন দৃষ্টিতে দেখিবে তাহাও গুরুত্বপূর্ণ বইকি।
