কবে মিলবে পরিত্রাণ?

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৮

 ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগানে আমরা কতই না তোলপাড় তুলে দিয়েছিলাম তা আমাদের সবারই জানা। কমবেশি আমরা সাধারণ জনগণ যানবাহন সেবার দৌরাত্ম্যের শিকার তা কারো অজানা নয়। কিন্তু তার মাঝে হর্ন বা শব্দযন্ত্রের যথেচ্ছাচারের ভূমিকা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে এমন কোনো রাস্তা, অলিগলি নেই যেখানে এই যানবাহনের হর্নের বিশ্রী আওয়াজ আমাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না। রাস্তায় যানজটের যথেষ্ট সজ্জিত ব্যবস্থা তো আমাদের চোখের নিত্য দর্শনীয় চিত্র। কিন্তু তার মাঝে যানজটের এমন বিরক্তিকর অবস্থাতেও আমার দেশের সুপ্রিয় গাড়িচালকদের হর্ন চাপার প্রতিযোগিতা দেখলে মনে হয় দেশে হর্ন বাজানোর ওপর ডি.লিট উপাধি প্রদান করা হবে। নগর বা শহরের প্রায় অল্প পরেই সড়কগুলোর সংযোগস্থল থাকে। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত দায়িত্বরতও থাকেন। তবে দেখা যায় সামনে ট্রাফিক সিগন্যাল দেওয়া আছে, পিছনে আমাদের গাড়িচালকরা লম্বা লাইনের পরেও পেছনে এমনভাবে হর্ন বাজান যেন তাদের বাবার বানানো রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ এসে অযথা সিগন্যাল দিয়ে বসে আছে। প্রাইভেট গাড়িগুলো তো লোকাল বাসকেও ছাড়িয়ে যায়। আবার দেখা যায় লোকাল বাসগুলো যাত্রী নামক সোনার হরিণ গাড়িতে পুরে নেওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় হর্ন বাজিয়ে এমন ভালো শব্দ দূষণের কৃতিত্ব হাসিল করেন যা সত্যিই ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

 মোটরযান আইন-১৯৮৮র ১৩৮ ধারা মতে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মোটরযানে এমন ধরনের হর্ন বা শব্দ উত্পাদনকারী যন্ত্র সংযোজন বা ব্যবহার করেন, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ এ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করেছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অনুরূপ হর্ন বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করেন, তবে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।’ কিন্তু আমাদের প্রিয় গাড়িচালকরা এমন আইনের কোনো তোয়াক্কাই করেন না। অবশ্য এত ট্রাফিক আইন নিয়ে জ্ঞান রাখেন এমন কজনই বা আছেন চালকদের মাঝে। এমন কী হাইকোর্টের নির্দেশ থাকার পরও যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার হরহামেশাই কানে বাজে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিয়েই যেন দায় সারছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবল। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে দেখা গেছে, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে শব্দের মানমাত্রা ১৩০ ডেসিবলের ওপরে, যা স্বাভাবিকের তুলানায় ৩ গুণ বেশি। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের এমন দূষণে এরই মধ্যে দেশের প্রায় ১২ শতাংশের বেশি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে উঠে আসছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চরক্তচাপ, হূদরোগ, ফুসফুসজনিত জটিলতা, মস্তিষ্কবিকৃতি, স্মরণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা। যা সত্যিই লোমহর্ষক চিত্র আমাদের চলাচলের জন্য। দেশে যানবাহনের পরিমাণ যেহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেভাবে সড়ক না থাকায় তা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে দেখা দিচ্ছে।

সর্বসাকুল্যে, এমন পরিস্থিতিতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। সেই সঙ্গে আমার দেশের সুপি য় চালকদের নিয়ন্ত্রিত হর্ন ব্যবহারে সুবুদ্ধির উদয় এবং সাধারণ জনগণেরও এক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়