নাটোরে অনলাইনের আওতায় আসছে জমির খতিয়ান

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:০৪

নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে জেলার প্রায় সাড়ে ৮ লাখ জমির খতিয়ান আসছে অনলাইনের আওতায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিশাল এই কর্মযজ্ঞে ইতিমধ্যে ৮ লাখ ৬ হাজার ১২২টি খতিয়ানের বিবরণী নথিবদ্ধ হয়েছে অনলাইনে। বাকি আছে মাত্র ৪০ হাজার ডাটা এন্ট্রির কাজ।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেকর্ড রুম সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় এস্টেট একিউজিশন অর্থাত্ এস এ রেকর্ডভুক্ত খতিয়ানের সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ১১২, ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে অর্থাত্ সি এস খতিয়ানের সংখ্যা ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ এবং রিভিশনাল সার্ভে অর্থাত্ আর এস খতিয়ানের সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৮৫। সব মিলিয়ে মোট খতিয়ানের সংখ্যা ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৯টি।

জেলার ৮ লাখ ৬ হাজার ১২২টি খতিয়ানের বিবরণী ইতিমধ্যে চলে গেছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট আর্কাইভে। অবশিষ্ট ৪০ হাজার খতিয়ানের ডাটা এন্ট্রির কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানালেন রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান চৌধুরী।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের “ডিজিটাল রেকর্ড রুম” প্রকল্পের আওতায় নির্ভুলভাবে ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নিয়োজিত শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে তিনটি পর্যায়ে কাজ সমাধা হচ্ছে। প্রথমত ডাটা এন্ট্রিকারী খতিয়ানের এন্ট্রি দিয়ে অনলাইন ফাইল পাঠিয়ে দিচ্ছেন তুলনাকারীর কাছে। তুলনাকারীর কাজ শেষ হলে অনলাইন ফাইল যাচ্ছে যাচাইকারীর কাছে।

ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রমের এন্ট্রিকারী গোলাম রাব্বানী জানান, নির্ধারিত সার্ভারে কাঙ্ক্ষিত গতি থাকলে দিনে ১০০ থেকে ১৫০টি খতিয়ানের এন্ট্রি সম্ভব।

তুলনাকারী শামসুর তাজবীর এবং যাচাইকারী রাজু আহমেদ বলেন, দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ খতিয়ানের তুলনা ও যাচাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নিয়োজিত এন্ট্রিকারীরা খতিয়ান প্রতি এন্ট্রি কাজের জন্যে আট টাকা এবং তুলনাকারী ও যাচাইকারীরা তাদের কাজের জন্যে খতিয়ান প্রতি দুই টাকা করে পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

সর্বশেষ মাঠ জরিপের আর এস খতিয়ান ঠিক থাকলেও এস এ এবং সি এস খতিয়ানের অনেক রেজিস্টার খাতা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ঐসব রেজিস্টার খাতা সংগ্রহ করে কাজ করা হয়েছে বলে রেকর্ড রুম সূত্রে জানা যায়।

নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. শরীফুন্নেছা বলেন, অনলাইন ডাটা এন্ট্রির কার্যক্রম শেষ হলে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে জমির মালিক ভূমি মন্ত্রণালয়ের আর্কাইভে জমির প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দেখতে পারবেন এবং স্বাক্ষরবিহীন প্রিন্টআউট কপিও নিতে পারবেন। আর অনলাইনে রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ান প্রাপ্তির আবেদন করা হলে স্বাক্ষরযুক্ত খতিয়ান মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে আবেদনকারীর ঠিকানায় পোস্ট করা সম্ভব হবে।

জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, জমির খতিয়ানের অনলাইন ডাটা এন্ট্রির কার্যক্রম শেষ হলে সেবা গ্রহিতা ঘরে বসেই তাদের জমির অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অতিদ্রুত জমির খতিয়ান হাতে পাবেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে তৈরি হবে আরো একটি মাইলফলক।