কে হবেন ইউরোপ-সেরা?

মেসি, রোনালদো না ফন ডাইক

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:২২

লিওনেল মেসি তৃতীয়বারের মতো উয়েফা বর্ষসেরার পুরস্কার জিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমকক্ষ হবেন, নাকি রোনালদো চতুর্থ জয়ে বার্সেলোনা অধিনায়কের সঙ্গে ব্যবধান বাড়াবেন? কিংবা দুজনকে ছাড়িয়ে  ভার্জিল ফন ডাইকের হাতে উঠবে ইউরোপের সেরা ফুটবলারের খেতাব। যেমনটি হয়েছিল গেলবার লুকা মদ্রিচের বেলায়। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাতে এ জিজ্ঞাসার জবাব মিলবে।

মোনাকোয় আজ চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গেল মৌসুমের ইউরোপের সেরা ফুটবলারটির নামও ঘোষণা করবে উয়েফা। গেল মৌসুমের সেরা গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড এবং সেরা নারী খেলোয়াড়ের নামও ঘোষণা করা হবে অনুষ্ঠানটিতে। এছাড়াও খেলোয়াড়ী জীবনে দারুণ সব কীর্তির জন্য সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড খেলোয়াড় এরিক কাতোয়াকে দেয়া হবে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার।

মেসি গেলবার সপ্যানিশ লিগে ৩৬ গোল করে বার্সেলোনার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে একটা বড় ভূমিকা রেখেছিলেন । এছাড়াও চ্যামিপয়ন্স লিগে করেছিলেন টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ১২ গোল। তার এমন কীর্তিতে ভর করেই তিন মৌসুম পর আবারও ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে শেষ চারে উঠেছিল কাতালান দলটি।

বার্সেলোনা যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের কাছে ৪-০ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। তারপরও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফলে তৃতীয়বার ইউরোপ-সেরা পুরস্কার জেতার দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। আজ পুরস্কারটি জিতলে ইউরোপসেরা হওয়ার ক্ষেত্রে রোনালদোর সঙ্গে সমতায় আসবেন মেসি। রোনালদো পুরস্কারটি জিতেছেন তিনবার।

পর্তুগিজ অধিনায়কের সামনেও আছে ইউরোপ-সেরা হওয়ার হাতছানি। ঘরোয়া লিগ জয়ের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও উয়েফা নেশন্স লিগ জিতেছেন রোনালদো, যা তাকে মেসি থেকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে। এছাড়াও নতুন দল জুভেন্তাসের হয়ে গেল মৌসুমে সিরি আতে করেছিলেন ২১ গোল। তার নৈপুণ্যে ভর করেই শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল তুরিনের ক্লাবটি। এছাড়াও চ্যামিপয়ন্স লিগে ছয় গোল করেছিলেন তিনি।

ফন ডাইক  অবশ্য এদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন আজ। লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সাফল্যের কারণে ইউরোপসেরা হওয়ার দৌড়ে ভালোভাবেই আছেন ডিফেন্ডার ফন ডাইক। ২০১৭-১৮ মৌসুমে দারুণ আক্রমণ ভাগ থাকলেও ভঙ্গুর রক্ষণভাগের জন্য ঘরোয়া ও ইউরোপীয় পরিসরে ভুগেছিল লিভারপুল। কিন্তু গেল মৌসুমে তার অন্তর্ভুক্তি লিভারপুল রক্ষণকে প্রিমিয়ার লিগের সেরা রক্ষণভাগে পরিণত করেছে। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করেছে। জাতীয় দলের হয়েও বেশ সফল ফন ডাইক। বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়া নেদারল্যান্ডসকে উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। যারই ফলে ইউরোপসেরা হওয়ার দৌড়ে আছেন তিনি।

এছাড়া মেসি-রোনালদো ও ফন ডাইক তিনজনই সেরা ফরোয়ার্ড হওয়ার দৌড়ে আছেন। এ লড়াইয়ে  আছেন লিভারপুলের সাদিও মানেও। ফন ডাইকের সঙ্গে সেরা ডিফেন্ডার হওয়ার লড়াইয়ে আছেন সতীর্থ ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড এবং সাবেক আয়াক্স আমস্টারডাম ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস ডি লিখট।

সেরা মিডফিল্ডার হওয়ার দৌড়ে আছেন লিভারপুল অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসন, টটেনহ্যামের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন এবং সদ্যই আয়াক্স ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানো ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং। গোলরক্ষকদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন ব্রাজিলীয় খেলোয়াড় এলিসন বেকার, টটেনহ্যাম গোলরক্ষক হুগো লরিস ও বার্সেলোনার মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন।

এছাড়াও বর্ষসেরা নারী খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে থাকা সব খেলোয়াড়ই অলিমিপক লিওঁর। এরা হলেন—আদা হেগারবার্গ, লুসি ব্রোঞ্জ ও অঁমাদিন অঁরি।