প্রশিক্ষণের অর্থ লুটপাটের দায়

ইসি ছাড়তে হলো ইটিআই ডিজিকে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২২:০৩

নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনের (ইটিআই) মহাপরিচালক (ডিজি) মোস্তফা ফারুককে নির্বাচনে প্রশিক্ষণের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ছাড়তে হচ্ছে। শত চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না তার। তবে পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন থেকে ইসিকে রক্ষা করতে না পারার অভিযোগে আরেক যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ পরিচালক) এস এম আসাদুজ্জামান আরজুকেও বিদায় করেছে কমিশন। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসির এই দ্বিমুখী নীতিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ইটিআই ডিজির বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। যেহেতু ডিজির হাত দিয়ে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বণ্টন হয়েছে। প্রশিক্ষণের আর্থিক ভাউচারও প্রস্তুত করেছে ইটিআই। কিন্তু প্রশিক্ষণে জনসংযোগ পরিচালকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাহলে কোন অপরাধে তাকে ইসি সচিবালয় থেকে বিদায় করা হয়েছে, তা কারোরই বোধগম্য নয়। তবে একটি সূত্র বলছে, জনসংযোগ পরিচালক প্রশিক্ষণ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন থেকে কার্যকরভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ওই ব্যর্থতার কারণেই তার ওপর অসন্তুষ্ট পাঁচ সদস্যের কমিশন এবং ইসির সংশ্লিষ্টরা। ফলে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের দায়ে তাকে বিদায় দিয়েছে ইসি। জানা গেছে, মূলত নির্বাচন প্রশিক্ষণে অর্থ লোপাট এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় ইটিআই ডিজি মোস্তফা ফারুক এবং ইসির জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামানকে স্ট্যান্ড রিলিজ (কর্মস্থল থেকে তাত্ক্ষণিক অবমুক্ত) করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের স্থলে আরো দুই কর্মকর্তাকে আনা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত বদলির আদেশ গত মঙ্গলবার জারি করা হয়। এই চার কর্মকর্তাকে বুধবারের (২৮ আগস্ট) মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তা নাহলে বৃহস্পতিবার তারা তাত্ক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। বদলির আদেশে ইটিআই ডিজিকে ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদারকে ইটিআইয়ের মহাপরিচালক, সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেনকে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের পরিচালক এবং নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামানকে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা পদে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে ইসির সচিব মো. আলমগীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নির্বাচন প্রশিক্ষণের নামে কোর্স উপদেষ্টা, বিশেষ বক্তা, কোর্স পরিচালক এবং কোর্স সুপারভাইজারের নামে বিগত সময়ে গ্রহণ করা সকল সম্মানী বন্ধ করে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করেছেন। আগের সচিব হেলালুদ্দীনের স্থলে যোগদানকারী সচিব মো. আলমগীর দায়িত্ব নিয়েই সমপ্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রশিক্ষণের অনুকূলে প্রস্তাবিত ‘বিশেষ সম্মানী’ বাজেট অনুমোদন করেননি। বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা, কোর্স পরিচালক এবং কোর্স সুপারভাইজারের নামে ইটিআই ডিজির প্রস্তাবিত বাজেট বন্ধ করে দেন ইসি সচিব।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রশিক্ষণের পেছনে প্রায় ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ইসির প্রশিক্ষণ নিয়ে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হলে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে কমিশন। বরাদ্দকৃত টাকায় যে প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। শুধু বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা, কোর্স পরিচালক এবং কোর্স সুপারভাইজার নামে ২ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও ইটিআই থেকে মাঠ পর্যায়ে জেলা অফিসের মাধ্যমে বেশির ভাগ অর্থ বরাদ্দ করা হয়। সেই বরাদ্দকৃত টাকার ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েক জন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা। তারা বলছেন, বিগত দুটি নির্বাচনের সময়ে প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক জেলা অফিসের নামে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেই টাকার ভাগও ঢাকার সংশ্লিষ্টরা নিয়েছেন। জেলা অফিসাররা নিজেরাও লাভবান হয়েছেন পাশাপাশি ঢাকার প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টদেরও লাভবান করেছেন। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে বেশি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন ইটিআই ডিজি। ইটিআইয়ের ডিজি মোস্তফা ফারুক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি এম এ আজিজের পিএস ছিলেন। তাকে নিয়ে নানা সমালোচনার কারণে বিগত এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে পুনরায় ঢাকায় বদলি করে আনেন বর্তমান হুদা কমিশন।