আইন পরিবর্তন করে হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১৪ দল আয়োজিত আলোচনা সভায় জোটের শীর্ষ নেতারা এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দেশ সম্পূর্ণ পাকিস্তানের ভাবধারায় চলছিল। সব শোককে শক্তিকে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অভীষ্ট লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সভাপতির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাংলাদেশে ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোনো দেশের জাতির পিতার হত্যাকারীদের অন্য দেশে আশ্রয় দেওয়ার নজির নেই। যারা গণতন্ত্র ও মানবতার কথা বলেন, তারা কীভাবে খুনিদের আশ্রয় দেন? মানবতার জন্যই তো আইন। এ ক্ষেত্রে আইনের দোহাই না দিয়ে আইন পরিবর্তন করে হলেও জাতির পিতার খুনিদের ফেরত দিন। যে দেশে আব্রাহাম লিংকন, মার্টিন লুথার কিংদের জন্ম, সে দেশে খুনিদের আশ্রয় হবে কেন? কানাডার তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডো’র সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই পিয়েরে ট্রুডোর সন্তান জাস্টিন ট্রুডো বর্তমানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তার পরও কানাডা কেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশগুলো এভাবে খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে, দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিরা তো সেখানেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেবে। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ভয়ঙ্কর খুনি রশিদ-ডালিম-নুরদের ফেরত দিতে তিনি ১৪ দলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জনমত সৃষ্টিতে শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করবে ১৪ দল। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের সম্পদ নন, বঙ্গবন্ধু সমগ্র বাঙালি জাতির সম্পদ।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিচক্ষণ নেতা ছিলেন। একবার যা বলতেন তাই করতেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, পচাত্তরের আগেও ‘এক নেতা, এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ স্লোগান ছাড়া কিছুই ছিল না। তাই এখন সবার সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করার পক্ষে মত দেন তিনি। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি হলো রাজনীতির বিষবৃক্ষ। তারা দেশের রাজনীতির জন্য হুমকি। এই বিষবৃক্ষ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিপদের মধ্যে থাকবো। তাই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬ হাজার ফসল কাটা ইঁদুরকে ধ্বংস করতে হবে।
জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশি-বিদেশি নানা চক্রান্ত চলছে। তারা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা গুজব-সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে। গুজব-সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের মনোবল ভেঙে দিতে চায় তারা। কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. অসীত বরণ রায়, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর সবুর, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে আরো সক্রিয় হতে হবে
এদিকে গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো সক্রিয় হতে হবে। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
