পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টাস্কফোর্সের বৈঠক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০৯

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব জনমত গড়তে জোর কূটনৈতিক তত্পরতা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘টাস্কফোর্স’ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে আজ বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বুধবার টাস্কফোর্সের বৈঠকে গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও এ সংকটের সমাধান। গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার সম্পর্কে আস্থার ঘাটতির কারণে রোহিঙ্গারা যেতে রাজি নয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর পরই বিশ্ব জনমত তৈরিতে ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, জেনেভা, লন্ডন, দিল্লি, বেইজিং, রিয়াদসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর রাজধানী শহরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কূটনৈতিক ব্রিফিং করার সিদ্ধান্ত হয়। এসব শহরে বাংলাদেশের মিশন প্রধানরা ব্রিফিং করবেন। এছাড়া ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের ফলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে সে সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে অবহিত করা এবং রোহিঙ্গাদের সামনে তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরার প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি করে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের বেশিরভাগই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বর্বর অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করে। পরে দুই দেশ ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে চুক্তি করে। ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতি খুবই সামান্য।

রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের আগে যাচাইয়ের জন্য ২৯ জুলাই ৬ হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার নতুন একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পেয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। কিন্তু তারাও যেতে রাজি হচ্ছে না।