চলার পথে মানবিকতা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:১০

চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ এলাকা উঁচু-নিচু হওয়ার কারণে নিচু রাস্তা থেকে উঁচু রাস্তার দিকে যাত্রীসহ রিকশা নিয়ে যেতে বেশ কষ্ট হয় চালকদের জন্য। অনেক যাত্রীই এরূপ পরিস্থিতিতে নিজ থেকেই নেমে যান, সমতল রাস্তায় এসে আবারো রিকশায় ওঠেন, অনেকেই নামতে চান না, জেনেশুনে দরদাম করেই যাত্রী নিয়েছেন, তাই চালাতেই হবে চালককে, এমন মনোভাব পোষণ করেন। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই বিশেষ করে উঁচু রাস্তাসহ সেতুতে উঠতে হয়, সেখানে এমন চিত্রই দেখা যায়। শুধু রিকশাই নয়, ভ্যান ও ঠেলাগাড়িতে মালামাল টানা মানুষগুলোর সাহায্যের প্রয়োজন হয় রাস্তায়। ভ্যানগাড়িতে কখনো কখনো যাত্রী থাকলেও ঠেলাগাড়িতে শুধুই মালামাল বহন করা হয়, ফলে সহায়তা চাইতে হয় পথচারীদের কাছেই, অনেকেই তাদের সহায়তা করেন, আবার অনেকেই করেন না। পাশাপাশি রাস্তাঘাটে ভারি বোঝা কিংবা বস্তু নিয়ে হেঁটে চলা মানুষগুলোও ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেয়, কিন্তু পুনরায় মাথায় বোঝা তোলার জন্য পথচারীদের সহযোগিতা চাইতে হয়, অনেকেই করেন আবার অনেকে করেন না। এগুলো বাংলাদেশে নিত্যদিনের চিত্র।

রাস্তায় অন্ধ ও অসুস্থ মানুষের সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয় নিয়মিতই। অন্ধকে পথ দেখানো, হঠাত্ অসুস্থ হওয়া মানুষকে চিকিত্সাসেবাসহ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার মতো প্রয়োজনীয়তায় অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, আবার অনেকেই বিপদ মনে করে মুখ ফিরিয়ে চলে যান। হ্যাঁ, এধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময়েই প্রতারকদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে সবকিছু হারালেও ন্যূনতম মানবিকতা বজায় রাখার জন্য চলার পথে মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসতেই হয়।

মানুষ মানুষের জন্য—এ চিরন্তন সত্যটিকে সামনে রেখে মানুষের যে কোনো প্রয়োজনে ও কল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত। তাহলে পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হবে নিঃসন্দেহে।

জুবায়ের আহমেদ

শিক্ষার্থী, ডিপ্লে­ামা ইন জার্নালিজম,

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম), ঢাকা