বাংলাদেশ সাফ অনূর্ধ্ব ১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে ৪-০ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকেই বিদায় নিল। যদিও বাংলাদেশের দলটিই ছিল গেলবারের চ্যাম্পিয়ন।
ভারত আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে রেখেছিল। এখন তাদের প্রতিপক্ষ হলো নেপাল যারা কাল ভুটানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে যোগ দেয়।
গতকাল বৃহসপতিবার বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হওয়ার আগেই নেপাল বড়ো ব্যবধানে জয়ী হয়। তাতে নেপালের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৯। অপরদিকে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় আগে পাওয়া ছয় পয়েন্ট নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় কোচ আনোয়ার পারভেজ বাবুর দলটির।
অধিনায়ক রাকিবুল ইসলামের দল মূলত আগের খেলায় এই নেপালের কাছে হেরেই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে। তাই কল্যাণী স্টেডিয়ামে এদিন শুরুতে নেপাল বড়ো জয় পেয়ে যাওয়ায় চাপ বাড়ে বাংলাদেশের কিশোরদের। ফাইনালে উঠতে হলে তাই নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
শিরোপা ধরে রাখার চেষ্টায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটির সাত আর আট মিনিটে গোলের সুযোগও সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ। আক্রমণভাগের দুর্বলতায় সুযোগ দুইটি নষ্ট হয়। উলটো ২৯ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল হজম করে বসে তারা। গোলটি করেন ভারতীয় ফরোয়ার্ড হিমাংসু জাংরা।
ফিরে আসার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগের ব্যর্থতা সমতায় ফিরতে দেয়নি বাংলাদেশকে। এর মধ্যে ৭৪ ও ৭৯ মিনিটে হিমাংসু আরো দুই গোল দিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। ফলে বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় আল আমিন-মিরাদদের। ৮৯ মিনিটে ভারত চতুর্থ গোলটি দিলে আর কিছুই করার ছিল না। গোলটি আসে বদলি খেলোয়াড় পলের পা থেকে।
কোচ পারভেজ বাবু এমন হারে গোলরক্ষক আর রক্ষণভাগেরই দায় দেখছেন। তার মতে, বক্সের বাইরে ফাউলগুলো না করলে এবং গোলরক্ষক গোলমুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটু সাবধানী হলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছিলাম। যার ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করেছিলাম আমরা, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। চার গোলের এই হার রক্ষণভাগের কিছু দুর্বলতা এবং গোলরক্ষণে ত্রুটির কারণে হয়েছে। বক্সের বাইরে ফাউলগুলো না করলে তারা সেটপিসগুলো পেত না। আর গোলরক্ষক গোলমুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসার টাইমিং ঠিক থাকলে হয়তো তারা গোল পেত না।’
চার গোলের ব্যবধানে হারলেও নিজেদের পারফর্মেন্সকে ভারত থেকে পিছিয়ে রাখছেন না এই কোচ। কেবল সুযোগ কাজে লাগাতে পারার ব্যর্থতা আফসোসে পোড়াচ্ছে তাকে। সাবেক এই ডিফেন্ডারের ভাষ্য, ‘ভারত যে খুব ভালো খেলেছে আমি তা বলব না। আমাদের ছেলেরাই ভালো খেলেছে। আমরা আমাদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। অন্যদিকে ভারত যে গোলগুলো পেয়েছে তার বেশিরভাগই সেটপিসে।’
টুর্নামেন্টে যাত্রার আগে কোচ বাবু এবং অধিনায়ক রাকিবুল জানিয়েছিলেন শিরোপা রক্ষার লক্ষ্যেই ভারত যাচ্ছেন তারা। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ দুই হার তাদের লক্ষ্য ও শিরোপাচ্যুত করে।
