তালেবানের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৪

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে, আফগানিস্তানকে জঙ্গিরা যেন তাদের আর স্বর্গরাজ্য বানাতে না পারে। কেবল এই শর্ত পূরণ হলেই চুক্তিটি সর্বশেষ ধাপে উন্নীত হবে।

প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানে কাতারের রাজধানী দোহায় বহুবার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তালেবানের বৈঠক হয়েছে। গত বছরও এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে আবার এ বৈঠক শুরু হয়। দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আমরা খুব শিগগিরই ভালো কোনো খবর দিতে পারব বলে আশা করছি। আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য নিঃসন্দেহে এটা ভালো খবর হবে। তবে দোহায় তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাত্ক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তালেবানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি জানেন এমন দুটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির বিষয়ে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে অবহিত করতে কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জামাল খলিলজাদ সাক্ষাত্ করবেন। কাবুলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ১৪ থেকে ২৪ মাসের একটি সময় নির্ধারণের ব্যাপারে একমত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

আফগান প্রেসিডেন্ট ঘানি এখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তিনি চুক্তির জন্য তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তালেবানের পক্ষ থেকে তখন আলোচনার শর্ত দেওয়া হয়েছিল মার্কিন সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় যাবেন না। এসব অচলাবস্থা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হয় এবং আশা করা হচ্ছে যে এর মাধ্যমে এ সংকটের একটা সুরাহা হবে। আফগান প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সেদিক সিদ্দিকি বলেন, সরকার কখনোই চায় না সেখানে মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে থাকুক। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে তাদের সেখানে থাকাটাও দরকার বলে আমরা মনেকরি। তিনি বলেন, আমরা আর রক্তপাত চাই না। আবার তালেবানের হুকুমগিরিও মানতে পারছি না। সঙ্গতকারণেই আমরা এখানে শান্তি চাই।