জিবিএক্স লজিস্টিকের আয়করের নথি তলব করেছে হাইকোর্ট

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৯

বাংলাদেশি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কোম্পানি জিবিএক্স লজিস্টিক লিমিটেডের আয়কর-সংক্রান্ত সব নথি তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত নথি আদালতে দাখিল করতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়। আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

‘৫৬ কোটি টাকার আয়কর দাবি পড়ে আছে এনবিআরে’ শিরোনামে গত ৫ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের মতো করে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছিল একটি কোম্পানি। তাতে কোম্পানিটি আয় দেখিয়েছিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা। ৬১ লাখ টাকার বেশি করও জমা দিয়েছিল তারা। কিন্তু এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সন্দেহ হলে তদন্তে নামে তারা। তাতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। দেখা যায়, আলোচ্য কর বছরে কোম্পানিটি আয় করেছে ৩৬৬ কোটি ৬ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে কোম্পানিটির মোট আয়করের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এনবিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কোম্পানি জিবিএক্স লজিস্টিক লি. আমদানি ও রপ্তানিকারকদের নানা সেবা দিয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মালামাল বিদেশে পাঠানোর জন্য জাহাজ ও এয়ারলাইনসের কার্গো স্পেস বুকিং করে থাকে। এর বিপরীতে তারা সংশ্লিষ্ট আমদানি ও রপ্তানিকারকের কাছ থেকে কমিশন পেয়ে থাকে। কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস লাইন এবং অপর বিদেশি কোম্পানি হ্যাপাগ লইয়েড থেকে যে কমিশন পেয়েছে, তার বিপরীতে উত্স কর বাবদ ৬১ লাখের একটু বেশি পরিমাণ টাকা জমা দেন। বিষয়টি এনবিআরের সন্দেহ হলে তারা তদন্তে নামে।

এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল বিস্তারিত তদন্ত করে বিভিন্ন ব্যাংকে কোম্পানিটির মোট ছয়টি একাউন্টের সন্ধান পায়। এসব একাউন্টের লেনদেনও ঐ সেলের নজরে আসে। তাতে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির একাউন্টগুলোতে কমিশন বাবদ মোট জমা হয়েছে ১৬১ কোটি ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৯ টাকা। টাকাগুলো ব্যাংক এশিয়ার গুলশান শাখা, ওয়ান ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা, জনতা ব্যাংকের চট্টগাম পোর্ট করপোরেট শাখা, সোনালী ব্যাংকের কমলাপুর রেলস্টেশন শাখা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের গুলশান শাখা এবং এইচএসবিসি ব্যাংকে জমা হয়েছে। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজুর নাহিদ।