গ্রামের প্রবেশপথের দুই পাশে সারি সারি তুলসী ও বাসক গাছ। একটু এগোলেই বাড়ির আনাচে-কানাচে চোখে পড়বে বিভিন্ন আকৃতির লতাপাতার গাছ। বাড়ির আঙিনা বা উঠান বলতে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই, যেদিকে চোখ যায় শুধু গাছ আর গাছ।
লতাপাতা বা কোনো আগাছা নয়, সবই ঔষধি গাছ। এখানেই শেষ নয় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গেলে দেখা যাবে বিলুপ্ত প্রায় অশোক, চিরতা, কর্পুর, পুনর্ভবা, তেজবল, নাগেশ্বর, অশ্বগন্ধা, জাতিপুষ্প, গোরখ চাকুলিয়া, কূটরাজ গাছ। এ ছাড়াও জীবনরক্ষাকারী মহৌষধ হিসেবে পরিচিত তুলসী পাতা, বাসক পাতা, কলোমেঘ, ওলট কম্বল, হরীতকী, বহেড়া, অর্জুন, স্বর্ণলতা, তেজপাতা ও বস গাছ।
পেটভাতা গ্রামের আয়শা বেগম বলেন, ‘পাঁচ শতক জমির ওপর আমার বাড়ি। এখানে বসবাসের পাশাপাশি ঔষধি গাছ লাগিয়েছি। প্রতি মাসে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ঔষধি গাছ ও পাতা বিক্রি করে থাকি। এটা আমাদের বাড়তি আয়।’
সলেমান মিয়া বলেন, ‘ঔষধি গাছ লাগিয়ে প্রতিমাসে ভালোই আয় হয়। ঔষধি গাছের জন্য আলাদা খরচ করতে হয় না। শুধু পরিচর্যা করলে আয় করা সম্ভব।’
সফল উদ্যোক্তা ও কবিরাজ হিসেবে পরিচিত আব্দুল জব্বার মিয়া তার সফলতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল গ্রামটিকে ঔষধি গ্রাম বানাব। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’
তিনি জানান, প্রতি মাসে বিভিন্ন জাতের ঔষধি গাছ ও পাতা ১০ থেকে ১৫ মণ ক্রয় করেন তিনি। এর মধ্যে শতমূল ৬০ টাকা কেজি, তুলসী পাতা ৫০, বাসক পাতা ৪২, কলোমেঘ ১২০, ওলট কম্বল, হরতকি ৪০০ টাকা মণ, এছাড়াও বহেরা, অর্জুন, স্বর্ণলতা, তেজপাতা ও বস এসবের বাজার ওঠা-নামা করে থাকে। আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির নিকট সরবরাহ করে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মন্ডল বলেন, ‘এই গ্রামে বহু প্রজাতির ঔষধি গাছ আছে। এর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঔষধি গাছের সুরক্ষা হচ্ছে। এই ঔষধি গাছের বাগানের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা উপকৃত হচ্ছে।’
পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বলেন, ‘ঔষধি গাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কদর ভেষজ কোম্পানির কাছে বেড়েছে। ফলে পেটভাতা গ্রামের মানুষ ঔষধি গাছ চাষ করে লতাপাতা বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।’
