রাজধানীর বাংলামোটরে বাসের চাকায় বিআইডাব্লিউটিসির কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় চৌধুরীর পা হারানোর ঘটনায় দায়ের মামলায় কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঐ বাসের হেলপারকে শনাক্তও করতে পারেনি পুলিশ। এতে বিচার পাওয়া নিয়ে কৃষ্ণার পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কৃষ্ণা রায় চৌধুরীকে চাপা দেওয়া বাসচালক ও হেলপারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল গনি মোল্লা ইত্তেফাককে বলেন, ‘আগেই তা কেটে ফেলা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত আছে। শনিবার তার চিকিত্সার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে। যাতে কাটা পায়ে কোনো ধরনের ইনফেকশন না হয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে ইনফেকশন এড়ানো কঠিন।’
কৃষ্ণা রায় হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পা হারিয়ে আমার সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। আমার জীবনের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আর কখনো আমি অফিসে যেতে পারব না। বাকি জীবন আমি কীভাবে কাটাব, কীভাবে চলাফেরা করব?’
গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে উলটো পাশের সড়কে ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন কৃষ্ণা রায়। ঐ সময়ে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে ফুটপাতে উঠে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশে তার বাম পা আটকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পঙ্গু হাসপাতালে ঐদিনই হাঁটুর নিচ থেকে বাম পা কেটে ফেলেন চিকিত্সকেরা। ঐ ঘটনায় বুধবার বাসের মালিক, চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা করেন কৃষ্ণার স্বামী রাধে শ্যাম চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের ঐ ঘাতক বাসের মালিক একজন নারী। তিনি র্যাংগস মোটরস থেকে বাসটি কিনে ট্রাস্ট কোম্পানিতে দেন। ঐ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম বলেন, এক নারী বাসটি কিনলেও এখনো এর বাসের মালিকানা র্যাংগস মোটরসের নামে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে বিআরটিএর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, তারা এখনো মালিক বা হেলপারকে শনাক্ত করতে পারেননি। মামলার আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিত্সাধীন কৃষ্ণা রায় চৌধুরীকে গতকাল কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, তিনি আপাতত শঙ্কামুক্ত হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। হয়তো দ্বিতীয় দফায় তার বিচ্ছিন্ন পায়ের অস্ত্রোপচার করা হবে। এতে ইনফেকশন এড়াতে ফের তার পায়ের আরো কিছু অংশ কাটতে হতে পারে।
