চলমান বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে হংকংয়ের রাজপথে বেশ কিছু চীনা সামরিক যান চলাচল করতে দেখা গেছে। এ খবর প্রকাশের পর চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া দাবি করেছে, বার্ষিক নিয়মিত রুটিনের অংশ হিসেবে হংকং সেনানিবাসের এসব যান বের হয়েছিল। সামরিক যানের চলাচলের পর বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বড়ো ধরনের ধরপাকড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
সিনহুয়ায় প্রকাশিত খবরে সাঁজোয়া যান ও ট্রাকে করে সেনা সদস্যদের চলাচলের পাশাপাশি চীনা নৌবাহিনীর একটি জাহাজকে হংকংয়ে নোঙর করতে দেখা গেছে। কাল শনিবার হংকংয়ে বড়ো ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে আন্দোলনকারীরা। এর আগে ঐ অঞ্চলে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) গতিবিধি বিক্ষোভকারীদের ওপর বড়ো ধরনের ধরপাকড়ের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সেনা কর্তৃপক্ষ এই চলাফেরাকে নিয়মিত বার্ষিক চলাচলের অংশ বললেও এর আগের দুইটি একই ধরনের চলাফেরা হয়েছে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে। ঐ দুই বছর সিনহুয়ার খবরে চলাচল করা সেনা সদস্য ও সামরিক যানের সংখ্যা অপরিবর্তিত ছিল বলে জানানো হয়। তবে এবছরের প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হংকং সীমান্তের দুই পাশের সেনানিবাসে আট থেকে দশ হাজার সেনা সদস্য রয়েছে।
চীনা সেনাবাহিনী যখন এই চলাফেরা করল তার আগে আগামী শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বৃহস্পতিবার হংকং পুলিশ আয়োজকদের শনিবারের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়ে দিয়েছে। হংকং-এর সিভিক পার্টির আইন প্রণেতা ডেনিস কোওক বলেছেন, রাজনৈতিক কারণেই এই সেনা চলাচল করানো হয়েছে। সম্প্র্রচারমাধ্যম আরটিএইচকে কে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এটা পিএলএ-র তরফে হংকংয়ের মানুষদের জানান দেওয়া বা সতর্ক করা যে, এসব মোতায়েন হতে পারে’। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি আর আবারও বলছি—সেনাবাহিনী ব্যবহার হলে হংকংয়ের পতন হবে আর এধরনের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই।’ এর আগে আগস্টের শুরুতে একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করে পিএলএ। সেই সময়েও বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়নের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল।
যুক্তরাজ্যের সাবেক উপনিবেশ হংকং বর্তমানে চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ‘এক দেশ, দুই নীতির’ ভিত্তিতে কিছু স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে হংকংয়ে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিল স্থগিত করার ঘাষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থি শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে বিলটি বাতিল এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভ চলমান রয়েছে।
