এসএসসি পরীক্ষার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২০:০১

সুধীর বরণ মাঝি , শিক্ষক 

হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয় , চাঁদপুর।

বর্তমান সময়ে একটি সম্পদের বেশ সংকট তৈরি হয়েছে। সম্পদটি নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। সম্পদটি প্রকৃতিতে তরল ও বায়বীয় অবস্থায় থাকে। পরিবেশ নিয়ে যারা চিন্তাভাবনা করছেন,তাদের  চিন্তাভাবনায় উক্ত সম্পদটির প্রতি খুবই গুরুত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ক) বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ?                                                                                                                                                                                      খ) বাংলাদেশের ক্রান্তীয় পাতাঝরা বা পত্রপতনশীল অরণ্যের বর্ণনা দাও ?                                                                                                                                              গ) উদ্দীপকের কোন সম্পদ ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়ছে তা ব্যাখ্যা করো।                                                                                   ঘ) ‘উক্ত সম্পদ রক্ষায় সম্পদটির সদ্ব্যবহারই যথেষ্ট’- উক্তিটিতে তোমার মতামত দাও।

ক) উত্তর : ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।                                                                                       

 খ) উত্তর : বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল,গাজীপুর,দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে পাতাঝরা বা পত্রপতনশীল অরণ্য দেখা যায়। শীতকালে এরূপ বনের পাতা সম্পূর্ণ ঝরে যায়। শাল,গজারি,কড়ই,বহেরা,হরীতকী,কাঁঠাল, নিম প্রভৃতি এ বনের প্রধান বৃক্ষ। শাল বা গজারি গাছ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় বলে একে শালবন বা গজারি বনও বলা যায়।

গ) উত্তর : উদ্দীপকের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। বিশুদ্ধ পানি জীবনের জন্য অপরিহার্য কিন্তু প্রকৃতিতে এ পানি অফুরন্ত নয়। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত পানির অধিকাংশই লবণাক্ত। স্বাদু পানি যা আছে তার খুব কমই আমাদের নাগালে আছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে এ পানি দূষিত হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। এমনকি পানির অধিকার নিয়ে যুদ্ধে ঘটনাও ঘটেছে। তাই পানি ব্যবস্থার বিষয়টি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যথাযথভাবে পানির ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ করতে হবে। পানি দূষণ রোধ এবং সবার জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা আবশ্যক।

ঘ) উত্তর : উদ্দীপকে পানিসম্পদের কথা বলা হয়েছে। এ পানিসম্পদ রক্ষায় সম্পদটির সদ্ব্যবহারই যথেষ্ট। পানি এমন একটি সম্পদ যা প্রাকৃতিক উপায়ে রূপান্তরিত হয়ে বারবার আমাদের কাছে ফিরে আসে।পানি চক্রের মাধ্যমে পানি আমরা বারবার ফিরে পাই কিন্তু কতিপয় মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কাজের ফলে এ পানি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। পানির চক্রটি ব্যহত হচ্ছে। অথচ এ প্রক্রিয়া চলে এসেছে হাজার কোটি বছর ধরে। কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু আমরা যখন এর অপব্যবহার করতে শুরু করি,দূষণ ঘটাতে থাকি, তখনই এটি আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে থাকে। পানির গতিপ্রবাহ নষ্ট করার ফলে নদীর স্বাভাবিক ধারাটি নষ্ট হচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে বন্যা, খরা, কিংবা নদীভাঙ্গন।  পানির অতিরিক্ত দূষণের ফলে পানি চক্রে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিচ্ছে।  যা পানির ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি সাধন করছে। পানি ব্যবস্থাপনার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার ফলে পানির প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।  ফলে মরুকরণ হচ্ছে। এত সব বিপর্যয় ও দুর্যোগের কারণ একটাই, আর তা হলো পানির যথাযথ ব্যবহারের পথে বাধা সৃষ্টি করা। তাই পানির যথাযথ ব্যবহারই পারে একে রক্ষা করতে।