কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিল পরিশোধের পর পুনরায় নতুন বিলের সাথে পরিশোধিত বিল অন্তর্ভুক্তি, মাসের নির্ধারিত সময়ের পরে এসে মিটার রিডিং বাড়িয়ে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। তবে এসব বিষয়ে কিছু করার নেই বলে জানালেন ডিজিএম।
শমসেরনগর বাজারের শিক্ষক বিপ্লব ভূষন দাস অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাড়াটিয়া বাসার হিসাব নম্বর ৯০৬/১৮৫০। গত জুন মাসে অস্বাভাবিক বিল আসে। পরে বাড়তি বিল আসার বিষয়টি আমার কাছে ধরা পড়ে। প্রতি মাসের ১১ তারিখ মিটার রিডার এসে বিল লিখে নেওয়ার কথা। বিদ্যুত্ বিলে ১১ তারিখ পর্যন্ত হিসাব উল্লেখ থাকে। তবে মিটার রিডার মাসের পনের তারিখে এসে রিডিং যা আসে তা লিখে নিলেও ১১ তারিখের পরিবর্তে পনের তারিখ লেখা হয় না। এভাবে জুলাই মাসে ২৩ ইউনিট বেশি নেওয়া হয়েছে। ফলে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির বিধান অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত চার টাকা হারে বিল পরিশোধ করতে হয়। মিটার রিডারের এহেন কার্যকলাপে ইউনিট বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত পাঁচ টাকা ৪৫ পয়সা হারে বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মিটার রিডারের গাফিলতির কারণে অতিরিক্ত বিল গুনতে হচ্ছে।
পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য নোয়াগাঁও গ্রামের সেলিম মিয়া, শিক্ষক নূরুল মোত্তাকীন বলেন, আমাদের নিয়মিত যে বিল আসে গত জুন মাসে বাড়তি বিদ্যুত্ ব্যবহার না করেও চার গুণ বেশি বিল আসে। শ্রীসূর্য্য গ্রামের বন ভূষন দাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করার চার দিন পর তৈরি হওয়া নতুন বিলের সঙ্গে পরিশোধিত পুরনো বিল সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে অফিসে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উলটো আমাদের দোষারূপ করেন। অফিসে কর্মচারীদেরও নানা অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখা যায়। এভাবে কমলগঞ্জে গত তিন মাসে অসংখ্য ভূতুড়ে বিল ও গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোবারক হোসেন সরকার বলেন, মিটার রিডিংয়ে যা আসছে বিলও তাই আসছে। মিটার রিডার যথাসময়ে যেতে না পারলেও পরে গিয়েও রিডিং তো ঠিক নিয়ে আসছে। তবে তারিখ কোনো ফ্যাক্টর নয় বলে দাবি করে বলেন, এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আর বিল পরিশোধের পর ব্যাংক থেকে আসতে দেরি হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে। গ্রাহকরা আসলে সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুত্ ব্যবহার করার কারণে বেশি বিল আসতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
