এই ধরনের হামলা কীসের আলামত?

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫৯

সমাজে যদি অস্থিরতা অন্তঃসলিলার মতো প্রবাহিত হয়, তবে তাহার নানান ধরনের উপসর্গ কোনো না কোনোভাবে প্রকাশ পাইয়াই থাকে। ইহার অনেক উদাহরণ বর্তমান সময়ে স্পষ্ট হইতেছে। গত বুধবার বাগেরহাটের ধানসাগর ইউনিয়নের বাধাল এলাকা হইতে বাড়ি ফিরিবার পথে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহারাজ হাওলাদারের উপর হামলা করে একদল যুবক। তাহারা রড দিয়া পিটাইয়া ও হাতুড়িপেটা করিয়া তাহার দুই পা ভাঙিয়া দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন মহারাজকে উদ্ধার করিয়া হাসপাতালে লইয়া যান। খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যানের মতে, এই হামলাকারীরা এলাকায় সন্ত্রাসী ও মামলাবাজ হিসাবে পরিচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গুলি করিয়া হত্যা করা হইয়াছে গত মার্চে। এই ধরনের রাজনৈতিক হামলার সংবাদ আমরা প্রায়শই পাইয়া থাকি। ইহার জন্য যেই কারণই থাকুক না কেন—কাহাকে হত্যা কিংবা হত্যার চেষ্টা কোনো সমাজে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইলে তাহা বিশেষ কিছু আলামতের দিকে ইঙ্গিত করে বটে। আমরা দেখিয়াছি, আক্রোশ ও হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাইলে তাহার পালটাপালটি জের চলিতে থাকে। তাহা ছাড়া, পরিস্থিতি সব সময় একই রকম থাকে না। আজ যেইখানে এক দলের আধিপত্য, কাল সেইখানেই শক্তির ভারসাম্য একেবারে উলটাইয়া যাইতে পারে। সুতরাং রাজনীতিতে নৈরাজ্যের কোনো স্থান থাকা উচিত নহে। কিন্তু কী উচিত আর কী অনুচিত—ইহা ভাবিয়া মাঠের রাজনীতি চলে না। এই কারণে সমাজের দর্পণের সম্পূরক হিসাবে মাঠের রাজনীতির আয়নাতেও উঠিয়া আসে নানান ক্ষতচিহ্ন। সমাজে, রাষ্ট্রে এবং সর্বোপরি বিশ্ব জুড়িয়া অস্থিরতা বিরাজ করিতেছে বিধায় উহার আলামত হিসাবে এই ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাইতেছে বলিয়া মনে করেন সমাজ বিশ্লেষকরা। দেখা যাইতেছে, বিভিন্ন কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ও ক্রোধ বাড়িতেছে, কিন্তু মানুষ তাহা প্রকাশের কোনো সুযোগ পাইতেছে না। ইহার ফলে মানুষের অন্তর্নিহিত উষ্মা-বারুদ জমা হইতে হইতে একসময় তাহা প্রকাশিত হয় প্রকটভাবে। তবে খুব সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করিলে ইহার কোনো পক্ষ-প্রতিপক্ষ নাই। প্রতিনিয়তই ইহাদের পালটাপালটি ঘটিতেছে।

স্পষ্টতই এই ধরনের অস্থিরতা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নহে। সমাজের এইসকল আলামতের সুরতহাল বুঝিয়া সেই অনুযায়ী সমাজকে তৈরি করিতে হইবে। সেই জন্য প্রয়োজন সমাজ-রাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বে প্রবহমান অশান্তি-নৈরাজ্যের স্রোতকে আটকানো। একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র হইয়া উঠিবার পথে আমরা যেন পিছনের দিকে না চলি। এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।