কাল তাজিকিস্তান যাচ্ছে বাংলাদেশ দল
স্পোর্টস রিপোর্টার
কোচ জেমি ডে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বে খেলতে বাংলাদেশ দল যে প্রস্তুতি নিয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।
বাংলাদেশ দল আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করবে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাকা আফগানিস্তান নিজেদের ‘হোম’ ভেন্যু হিসেবে তাজিকিস্তানকে বেছে নিয়েছে। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাই ১০ দিন আগে আগামীকাল দেশটিতে যাচ্ছে কোচ জেমি ডের শিষ্যরা।
লাওসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। এ জয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছিল জামাল ভুঁইয়ার দল। এবার আরও বড়ো পরীক্ষা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় ধাপে ‘ই’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এবার আফগানিস্তান, ভারত, কাতার ও ওমান। শুরুটা আফগানিস্তান দিয়ে। তাজিকিস্তানের দুশানবে স্টেডিয়ামের এই ম্যাচটির জন্য দেশের মাটিতে ৯ দিন অনুশীলন করেছে দল।
জেমি ডে দুই মাসের ছুটি শেষে গত ১৯ আগস্ট দেশে এসে জানিয়েছিলেন, অনুশীলনের জন্য এই কিছুদিনই যথেষ্ট। গতকাল সফরপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও দলের অনুশীলন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। কোচের ভাষায়, ‘বিকেএসপির অনুশীলন সেশন শেষে বলতে পারি, আমার দল বেশ আত্মবিশ্বাসী। ছেলেরা দারুণ ছন্দে আছে। কৌশলগত অনেক দিকেও উন্নতি করেছি আমরা।’
মিডফিল্ডার রবিউল হাসান সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা নিয়েই তাজিকিস্তানে যাচ্ছেন তারা। তিনি বলেন, ‘তাজিকিস্তানে আমরা একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই যাচ্ছি। সেখানে কোনো প্রকারের আনন্দ-ফুর্তি করতে যাচ্ছি না। ম্যাচটাকে লক্ষ্য করে গত কিছুদিনে সকাল-বিকাল পরিশ্রম করেছি আমরা। সকালে অনুশীলন শেষে কৌশলগত দিকগুলো ঝালিয়ে নিয়েছি। বিকালবেলা ছিল জিম সেশন। ভালো ফলাফলের লক্ষ্য নিয়েই তাজিকিস্তানে যাচ্ছি আমরা।’
লাওসের বিপক্ষে দুই লেগের বিশ্বকাপ বাছাই এবং এর আগে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঝমাঠ থেকে বেশ কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলেন মামুনুল-জামাল ভুঁইয়ারা। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় ম্যাচ তিনটিতে কেবল দুটি গোল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল দলকে। কিছুদিন আগে অধিনায়ক জামালও জানিয়েছিলেন, আরো দায়িত্ব নিতে হবে দলের আক্রমণভাগকে। এবার ইংলিশ কোচ জেমিও জানালেন, তৈরি করা সুযোগ নষ্ট করা চলবে না মোটেও।
তিনি বলেন, ‘দেখুন, কেউ ইচ্ছে করে সুযোগ নষ্ট করে না। জীবন-মতিনরা গোল করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামেন। লাওস ম্যাচে সেটা হয়নি। দুই-তিনটা সুযোগ নষ্ট না হলে ম্যাচটা আমাদের জন্য আরও নিরাপদ হয়ে যেত। আফগানিস্তান ম্যাচে এমন সুযোগ নষ্ট করা চলবে না। অন্যথায় বিপদে পড়তে হবে।’
আফগানদের বিপক্ষে এখনো দল চূড়ান্ত করেননি কোচ। এএফসি কাপের জোনাল সেমিফাইনাল খেলে এখনো দেশে ফেরেনি আবাহনী। দলটির সাত জন খেলোয়াড়কে প্রাথমিক দলে রেখেছেন তিনি। আজ সকালে প্রিমিয়ার লিগ রানার্সআপরা উত্তর কোরিয়া থেকে দেশে ফিরলেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে ।
এদিকে দীর্ঘ লিগ মৌসুম শেষে দলটির মহাদেশীয় আসরে খেলা অবসাদ বয়ে আনবে কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল কোচের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছুটা তো অবশ্যই। তাজিকিস্তানে যাওয়ার পর আবাহনীর খেলোয়াড়েরা কিছু বাড়তি বিশ্রাম পাবে। তাতেই অবসাদ কেটে যাবে আশা করি।’ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্থানীয় দল এফসি কুকতোশ ও সিএসকেএ পামিরের সঙ্গে আগামী ৩ ও ৫ সেপ্টেম্বর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।
