স্পোর্টস ডেস্ক
লিভারপুল ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক ইউরোপ সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পেলেও মোনাকোয় আলো ছড়ালেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ফুটবল বিশ্বের সেরা এই খেলোয়াড়দ্বয় গত বৃহস্পতিবার রাতে উয়েফার অনুষ্ঠানটিতে পাশাপাশিই বসেছিলেন। দুজনে কৌতুকে মেতে উঠেন এবং কখনো কখনো তাদের হাসতেও দেখা যায়। মেসি রোনালদো দীর্ঘদিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। জুভেন্তাসে যোগ দেওয়ার আগে রোনালদো নয় বছর রিয়াল মাদ্রিদে খেলেন। সেই সময়ে বার্সেলোনার মেসির সাথে তার ছিল প্রত্যক্ষ দ্বৈরথ।
মেসি রোনালদো এছাড়াও গত এক দশক ধরে বিশ্বের সেরা ফুটবলার তথা ব্যালন ডি’অরের ভোটাভুটিতেও ছিলেন দুই মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। এসব মনে রেখেই রোনালদো বলেন, ‘অবশ্যই স্পেনের খেলাটার অভাব বোধ করি আমি। আমরা ১৫ বছর ধরে মঞ্চ শেয়ার করেছি। আমি জানি না এর আগে কখনো এভাবে দুই ব্যক্তি সবসময় একই মঞ্চ শেয়ার করেছেন কিনা।’
পর্তুগিজ তারকা আরো বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। যদিও আমরা এখনো একসাথে নৈশ ভোজে অংশ নেইনি। তবে ভবিষ্যতে ঘটবে বলে আশাবাদী। স্পেনে আমরা লড়েছিলাম। সে আমাকে এবং আমি তাকে চাপে রাখতাম। কাজেই ফুটবল ইতিহাসের অংশ হতে পারাটা ভালো ব্যাপার।’
আর্জেন্টাইন তারকা মেসিও রোনালদোর প্রশংসার প্রতিধ্বনি করেন। জুভেন্তাস তারকার সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজের এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিবাদন জানান তিনি। মেসি বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর সাথে এটা ছিল খুবই সুন্দর এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গোল করাটা দারুণ ব্যাপার। গোল হলো সবসময়ই জয়ের চেষ্টার জন্য। তবে আপনি যদি জেতেন এবং গোল করেন, তাহলে সবচাইতে ভালো হয়।’
এসবের মধ্যেই দুজনকে টপকে ইউরোপ সেরা হন ভার্জিল ফন ডাইক। গেল মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে একই সাথে সেরা ডিফেন্ডারের পুরস্কারটিও জিতে নেন ডাচ এই ডিফেন্ডার।
তিনি অবশ্য এ সাফল্যের জন্য দলসঙ্গীদের কৃতিত্ব দেন। জাতীয় দলের হয়েও বেশ সফল ছিলেন তিনি। নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে উতরাতে না পারলেও উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে উঠায় ফন ডাইকের অবদান ছিল।
ফন ডাইক বলেন, ‘এই ট্রফিটি জিতে আমি গর্বিত। যারা আমাকে সাহায্য করেছে তারা সবাই একই কৃতিত্বের ভাগিদার। আমি দলসঙ্গীদের এ জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের ছাড়া আমি এটি অর্জন করতে পারতাম না।’
আসল পুরস্কারটি জিততে না পারলেও খালি হাতে ফেরেননি মেসি। জিতেছেন মৌসুমসেরা ফরোয়ার্ডের পুরস্কার। সেরা মিডফিল্ডারের পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রাংকি ডি ইয়ং। সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন লিভারপুল গোলরক্ষক এলিসন বেকার।
অপরদিকে মৌসুমসেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার লুসি ব্রোঞ্জ। নারী বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে তোলা তার অন্যতম কৃতিত্ব। প্রথম ইংলিশ হিসেবে এই পুরস্কারটি জিতলেও জাতীয় দলের হয়ে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলা ছিল বলে তিনি মোনাকোয় যেতে পারেননি।
