পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ভিসা ওয়ার্ক পারমিট জালিয়াত চক্রের সাত সদস্য গ্রেফতার, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম
জব্দ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও মেডিক্যাল রিপোর্টসহ সব কাগজপত্রই তারা তৈরি করে দেয়। তবে সবই জাল। এভাবে বিদেশ গমনেচ্ছুদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তারা হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় জড়িত এই চক্রের সাত সদস্যকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বাপ্পী ইসলাম, নিয়াজুল ইসলাম, এন এ সাত্তার, সাব্বির হাসান, রাসেল হাওলাদার, সোহরাব হোসেন সৌরভ ও মোহাইমিনুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি জাল আমেরিকান পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে করা ৪৮টি বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রথম পাতার ফটোকপি, বিদেশে কাজ ও হিসাবের খাতা, দুইটি বিমান টিকিটের ফটোকপি, দুই জনের মেডিক্যাল রিপোর্ট, যুক্তরাজ্যে জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কপি, বাংলাদেশ জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেওয়া ২৫টি সার্টিফিকেট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, কানাডা ও পোল্যান্ডের লেবার কার্ড, বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নামে ইমার্জেন্সি নোটিশ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সাতটি মূল কপি, দুইটি কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়েছে।
খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানায়, গত ২৮ আগস্ট সোহেল মিয়া নামে এক যুবক অভিযোগ করেন, প্রতারক চক্র তাকে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে অর্থের বিনিময়ে জাল ওয়ার্ক পারমিট দিয়েছে। এ বাবদ বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেওয়া হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে খিলক্ষেতের রাজউক ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে বাপ্পী ও নিয়াজুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো পাঁচ প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত বাপ্পী এই চক্রের প্রধান। নিয়াজুল বিদেশে লোক পাঠানো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান করে বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। সেই সঙ্গে বলতে থাকে—‘আমার বস্ আমেরিকান অ্যাসেম্বিতে চাকরি করে। সে বিভিন্ন দেশে সহজে লোক পাঠাতে পারে।’ প্রলোভনে কেউ রাজি হলে বিদেশে পাঠানোর নামে তাদের একেকজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকার বেশি নেয় তারা। তারা জালিয়াতি করে বিভিন্ন পরিচয়পত্র, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিভিন্ন দেশের ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও মেডিক্যাল রিপোর্টসহ জাল কাগজপত্র তৈরি করে দেয়। এ জন্য তারা বিদেশগামীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করে। গতকাল শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
