দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল আমেরিকা। এর চার বছর পর বিশ্বের দ্বিতীয় পরমাণু শক্তিধর দেশে পরিণত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিখ্যাত ম্যানহাটন প্রোজেক্টের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা ‘ফ্যাটম্যান’ পেয়েছিল আমেরিকা। সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘আরডিএস-১’ও তৈরি হয়েছিল ম্যানহাটন প্রোজেক্ট থেকে। সিআইএর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৩ সালের আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক বোমা তৈরির কথা না থাকলেও ১৯৪৯ সালেই তারা ‘আরডিএস-১’ বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। আর সেটি করতে পেরেছিল এক মার্কিন বিজ্ঞানীর কারণে। মূলত থিওডর হল নামের এক বিজ্ঞানী গোপনে সোভিয়েতকে পরমাণু বোমা তৈরির তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন।
থিওডর হল ছিলেন বিখ্যাত ম্যানহাটন প্রোজেক্টের কনিষ্ঠতম বিজ্ঞানী। এই ম্যানহাটন প্রকল্প থেকেই তৈরি হয়েছিল বিশ্বের সর্বপ্রথম পারমাণবিক বোমা ফ্যাটম্যান। ব্রিটেন ও কানাডার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘ম্যানহাটন প্রোজেক্ট’ নামের এই আণবিক বোমার প্রকল্পটি চালাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর কোড নেম ছিল ‘ম্যানহাটন প্রোজেক্ট’। ম্যানহাটন প্রোজেক্টের একেবারে ভেতরে থেকে সেই বোমার নকশা-সংক্রান্ত তথ্য সোভিয়েতকে পাচার করেছিলেন থিওডর। গোপনীয়তার বিষয়টি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৫ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে লেখা হয়েছিল, ‘সম্ভবত পুরো দেশের মাত্র কয়েক ডজনের বেশি মানুষ এই প্রোজেক্টের অর্থই জানত না। থিওডর হল ছিলেন সেই কয়েক ডজনের একজন। থিওডর ছাড়াও আরো কয়েকজন মার্কিনি শত্রুপক্ষকে গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। কিন্তু নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এই থিওডর কীভাবে একজন গুপ্তচরে পরিণত হয়েছিলেন, তা বেশ চাঞ্চল্যকর। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেন। ১৯৪৪ সালে হার্ভার্ড থেকেই স্নাতক শেষ করেন। ১৯৪৩ সালে ‘গোপন’ লস অ্যালামস গবেষণাগারের একটি পদের জন্য বাছাই করা হয় থিওডরকে। কিন্তু এক কমিউনিস্ট রুমমেটের মাধ্যমে সোভিয়েত দলে ভিড়ে যান তিনি। স্যাভিল স্যাক্স নামের ওই ছাত্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা তৈরির তথ্য তুলে দেন সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে।
১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তরুণ বিজ্ঞানী হল তার সাবেক রুমমেটের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো লস অ্যালামস থেকে আণবিক বোমার গোপন তথ্য সোভিয়েতদের কাছে হস্তান্তর করেন। শত্রুপক্ষকে এভাবে তথ্য পাচার করার যুক্তি হিসেবে থিওডরের আশঙ্কা ছিল, পারমাণবিক অস্ত্র প্রযুক্তির একক মালিক হয়ে মনোপলি তৈরি করতে পারে আমেরিকা। তার আশা ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন আণবিক শক্তিধর হলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হবে এবং মার্কিনিদের যে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। -বিবিসি
