খাগড়াগড় বিস্ফোরণে চার বাংলাদেশির ১০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫০

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় ১৯ জনকে সাজা দিয়েছে কলকাতার নগর দায়রা আদালত। এদের মধ্যে ৪ বাংলাদেশির ১০ বছরের সাজা হয়েছে। সাজার মেয়াদ শেষে তাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে। এই মামলায় দুই নারীসহ ১৯ জন অভিযুক্ত তাদের দোষ স্বীকার করে নেয়। ঘটনায় বোমারু মিজান ওরফে কাওসার দোষ শিকার করেননি। তাঁর বিচার চলবে। গতকাল শুক্রবার এই রায় দেন কলকাতার নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বাড়ি। ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু হয়। তদন্তে নামে ভারতের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। তদন্তে উঠে আসে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের নাম। জানা যায়, তারাই ঘাঁটি গেড়েছিল খাগড়াগড়ে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বড় নাশকতার ছক কষতেই ওই বাড়িতে তারা বোমা বানাচ্ছিল। পরে ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা, ষড়যন্ত্র,  বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।

গ্রেপ্তার ওই ৩১ জনের মধ্যে ১৯ জন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে পিটিশন দিয়েছিলেন বলে এনআইএ-এর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানিয়েছেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে। বুধবার সেই আবেদনের শুনানির পর ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। শুক্রবার রায় ঘোষণা করা হয়।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে দুই নারী এবং আসামের এক ছাত্রের ৬ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বাকি ১২ জনের ৮ বছরের জেল হয়েছে। এ ছাড়া জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। যাদের একাধিক সাজা হয়েছে, তাদের সব সাজা একসঙ্গে চলবে।

বিস্ফোরণের পিছনে থাকা নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা কদর গাজি, কওসর ওরফে বোমারু মিজান, ডালিম শেখ, ইউসুফ শেখরা দোষ স্বীকার করেননি। ওই ১২ জনের বিচার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গেছে।