কাশ্মীরে সেনা অভিযানে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫০

ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার ব্যবস্থা বাতিলের পর ভারত-শাসিত কাশ্মীরের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মারধর এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেখানকার একাধিক গ্রামের বাসিন্দার সাথে কথা বলেছে বিবিসির সংবাদদাতা। গ্রামবাসী অভিযোগ করেছে যে, তাদেরকে লাঠি ও তার দিয়ে মারা হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। অনেক গ্রামের বাসিন্দাই বিবিসিকে ক্ষতচিহ্ন দেখান। তবে ভারতের সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও প্রমাণসাপেক্ষ নয়’ বলে দাবি করেছে।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মীরকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে কাশ্মীর। এর পর বিবিসির সংবাদদাতা দক্ষিণ কাশ্মীরের অন্তত ছয়টি গ্রামে ঘুরেছেন। সেসব গ্রামের বাসিন্দার কাছ থেকে নির্যাতনের একই ধরনের বক্তব্য পেয়েছেন তিনি। একটি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে, ভারতের সংসদে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের ঘোষণা আসার সাথে সাথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। একটি গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাই বলেন, ঐদিন সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের বাড়ি থেকে জোর করে বের করে নিয়ে গিয়ে আরো কয়েকজনের সাথে দাঁড় করায়। তারা আমাদের ব্যাপক মারধর করে। শরীরের প্রতিটি অংশে তারা আঘাত করে। আমাদের লাথি দেয়, লাঠি ও তার দিয়ে মারে, বৈদ্যুতিক শকও দেয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে যখন আমরা অজ্ঞান হয়ে যাই, তখন বৈদ্যুতিক শক দিয়ে আমাদের জ্ঞান ফিরিয়ে আনে। লাঠি দিয়ে মারার সময় আমরা যখন চিত্কার করছিলাম, তখন আমাদের মুখ বন্ধ করার জন্য মুখে কাদা ভরে দেয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাদের বলি যে, আমাদের মের না, এর চেয়ে গুলি কর। একপর্যায়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে অনুনয় করি যেন আমাদের উঠিয়ে নেয়।

গ্রামের আরেকজন তরুণ জানান, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে কে কে পাথর ছুঁড়েছে তাদের নাম বলতে সেনাসদস্যরা তাকে বারবার চাপ দিতে থাকে। সে বলতে না পারায় সেনারা তার চশমা, জুতা ও কাপড় খুলতে নির্দেশ দেয়। ওই তরুণ বলেন, আমার গায়ের কাপড় খোলার পর তারা আমাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পেটায়। যখনই অজ্ঞান হয়ে যেতাম, তারা বৈদ্যুতিক শক দিত আমার জ্ঞান ফেরানোর জন্য। তারা যদি আবারও আমার সাথে এরকম করে, তাহলে আমি যে কোনোভাবে এর প্রতিরোধ করব। প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে তুলে নেব। তরুণটি বলে, সৈন্যরা তাকে সতর্ক করে দেয় যে, গ্রামের কেউ যদি কোনো ধরনের বিক্ষোভে অংশ নেয় তাহলে তাদের পরিণতিও একই হবে।

গ্রামের মানুষ মনে করে সেনাসদস্যরা এরকম নির্যাতন করেছে যেন সবাই কোনো ধরনের বিক্ষোভে অংশ নিতে ভয় পায়। নির্যাতনের শিকার আরেকজন বলেন, অন্তত ১৫-১৬ জন সেনাসদস্য তাকে মাটিতে ফেলে রড, লাঠি, তার দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। তারা আমার দাঁড়ি ধরে এত জোরে টানে যে, আমার মনে হচ্ছিল দাঁত উপড়ে আসবে।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা ‘অভিযোগ অনুযায়ী কোনো নাগরিকের সাথে জবরদস্তি করেনি’ তারা। এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আমান আনন্দ বলেন, অভিযোগগুলো শত্রুভাবাপন্ন মানসিকতা থেকে উদ্ধৃত। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেনাবাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপের কারণে নিহত বা আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।