ব্রেক্সিট নিয়ে বিপাকে বরিস জনসন

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫১

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট করতে পার্লামেন্ট স্থগিত করায় চরম বিপাকে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বিরোধী লেবার পার্টিসহ নিজ দলের অনেক এমপিও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জন মেজর জুডিশিয়াল রিভিউ চাইবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ইতোমধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তে সাময়িক স্থগিতাদেশের আবেদন একটি আদালত নাকচ করে দিয়েছে। খবর বিবিসির

বিপাকে প্রধানমন্ত্রী বরিস

ব্রিটেনে বিরোধী দলীয় এমপিরা এবং ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কিছু সদস্য বলেছেন, তারা সরকারের পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বদল করতে একসঙ্গে কাজ করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার নির্ধারিত তারিখ ৩১ অক্টোবরের আগে ৫ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে সরকারের মন্ত্রীরা এখনো বলছেন, স্থগিত করার অর্থ পার্লামেন্টের মুখ বন্ধ করা নয়। আর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সতর্ক করে বলেছেন, ইইউ’র সঙ্গে চুক্তি করার একটা সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে দেশের ক্ষতি হবে।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, এটা কোন বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা আইনের শাসনেরই অংশ। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির জন ম্যাকডোনেল সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘ব্রিটিশ অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। লেবার পার্টির ছায়া অর্থমন্ত্রী জন ম্যাকডোনাল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার দল প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে স্বৈরশাসকের ভূমিকা পালন করতে দেবে না। তিনি বলেছেন, স্থগিতাদেশ বাতিল করতে লেবার পার্টি প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে। তারা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে সবরকম আইনি পথ ব্যবহার করে পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

কনজারভেটিভ দলের দু’জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন যাদের মধ্যে আছেন স্কটল্যান্ডে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা রুথ ডেভিডসন। ব্রেক্সিট বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে ব্রিটেনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব জিনা মিলার জনসনের সিদ্ধান্তের আইনি পর্যালোচনার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর এই আবেদনের শুনানি হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জন মেজর জানিয়েছেন, তিনি আদালতে যাবেন এবং জুডিশিয়াল রিভিউ চাইবেন। তবে স্কটল্যান্ডে ৭৫ জন এমপি সরকারের পার্লামেন্ট স্থগিতের বিরুদ্ধে সাময়িক স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। লেবার পার্টি একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।