বড়লেখা দিয়ে চোরাই পথে আসছে মহিষ-গরু, মোটরসাইকেল

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫১

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক ভারতীয় মহিষ ও গরু আসছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে দেশের অন্যান্য জেলায় এগুলো চালান করা হয়। এছাড়া মোটরসাইকেল, মদ, ইয়াবা, হরলিক্স, সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। মাঝে মধ্যে কিছু ধরা পড়ে। বেশিরভাগই বাজারজাত হয়।

চলতি আগস্ট মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে ২০ জন আহত ও আব্দুর রূপ নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি শরফ উদ্দিন নামের একজনের মহিষ আনতে ভারতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মারা যান। সীমান্ত দিয়ে অবাধে মহিষ ও চোরাই পণ্য প্রবেশের ঘটনায় সম্প্রতি বড়লেখায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর, সদর ও উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা দিয়ে মহিষ, গরু, মোটরসাইকেল, মদ, ইয়াবা, হরলিক্স, সিগারেটসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য চোরাই পথে ঢুকছে। কেউ নগদ টাকা আবার কেউ পণ্যের বিনিময়ে মালামাল আনে। পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ। মহিষ ও গরু অবৈধ পথে দেশে প্রবেশের পর আইনি ঝামেলা এড়াতে এগুলো বৈধ করার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় কাগজপত্র। পরে দেশের অন্যান্য জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে এগুলো বিক্রি করা হয়।

সরেজমিনে সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতে যারা পণ্য আনতে ঢুকে তাদের স্থানীয় ভাষায় দৌড়াল (সোর্স) বলে। এরা টাকার বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নেয়। এদের কেউ কেউ ধরা পড়ে আহত হয়। কেউ গুলিতে মারা যায়। কিন্তু যারা নেপথ্যে টাকা বিনিয়োগ করে তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাত ১২টা থেকে ভোরের মধ্যে চোরাই পথে এসব মালামাল আনা হয়। প্রতি রাতে ওপারের ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোনে আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয় মালামাল আনার প্রক্রিয়া। এরপর পণ্য আনার জন্য ব্যবসায়ীর বিশ্বস্ত দৌড়াল লোকজন জোগাড় করে সীমান্তের দিকে রওনা দেয়। পণ্য আনা-নেওয়াকে কেন্দ্র করে আবার দৌড়াল বা সোর্সদের মাঝে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে।

বিয়ানীবাজার বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান এসপিপি, পিএসসি গতকাল শুক্রবার বিকালে বলেন, ‘বড়লেখা সীমান্ত এলাকাটি খুব দুর্গম। চোরাচালান রোধে বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক তত্পর রয়েছে। পাহাড় ও অরণ্য বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় অধিনায়ক, ঊর্ধ্বতন দপ্তর ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি ও জবাবদিহিতা রয়েছে বিধায় দায়িত্ব পালনে বিজিবি সদস্যদের কোনো অবহেলা করার সুযোগ নেই। নিয়মিত পতাকা বৈঠক হচ্ছে বিএসএফের সঙ্গে। এলাকাগুলোতে জনসচেতনতামূলক বৈঠক করছি নিয়মিত।’