এক বছরের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তায় আসছে বঙ্গোপসাগরের সীমানা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫২

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সীমানা ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আসতে আরো এক বছর সময় লাগবে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অগভীর সমুদ্র অঞ্চলে চলাচলকারী যান্ত্রিক নৌকাগুলোতে লাগানো থাকবে এক ধরনের নিরাপত্তা ডিভাইস। ফলে সেইসব নৌযানের কার্যক্রম, তত্পরতা এবং আশেপাশের নৌযানের তত্পরতার লাইভ ভিডিও উপকূল থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। গভীর সমুদ্রের নৌযানগুলোর তত্পরতার ডিজিটাল সংকেতও মনিটরে দৃশ্যমান হবে, এতে বোঝা যাবে তারা কী করছে।

মত্স্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাসহ নানা কারণে চলাচলকারী যান্ত্রিক নৌকা ও মাছ ধরার জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা চলে আসছে। গভীর সমুদ্র থেকে নৌযানগুলোর নিরাপদে প্রত্যাবর্তন এবং সেগুলোতে নানা ধরনের নিরাপত্তাহীনতা রোধ করা যাচ্ছিল না। ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে শুধু নৌযানগুলোর নিরাপত্তাই নয়, বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর এলাকায় মাদক পাচার, জলদস্যুতাসহ মারাত্মক অপরাধ কার্যক্রমও উপকূলে বসে অবলোকন করা যাবে এবং তাত্ক্ষণিকভাবে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এতে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বাংলাদেশের নিজস্ব সমুদ্র সীমানা নিরাপত্তা নজরদারি বহুলাংশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচে গত বছর থেকে চলমান ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ এর আওতায় চলমান প্রকল্পটি বঙ্গোপসাগরে ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে চলেছে। প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক অধীর চন্দ্র দাশ ইত্তেফাককে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রাম কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় ১৬টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হচ্ছে। এই ১৬টি চেকপোস্টে থাকবে ডিজিটাল রিসিভার, মনিটরসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। চেকপোস্টে বসে বঙ্গোপসাগরের নৌযানগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এ জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সহায়তাও নেওয়া হবে। নেটওয়ার্কের সুবিধা-অসুবিধার জন্য শুধু অগভীর এলাকায় চলাচলকারী যান্ত্রিক নৌযানগুলো থেকে লাইভ ভিডিও মনিটরে অবলোকন করা যাবে। নেটওয়ার্কের সীমা গভীর সমুদ্র পর্যন্ত কাভার করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকায় সেখানকার মাছ ধরার জাহাজগুলোতে স্থাপিত বিশেষ ডিভাইস ১৬টি চেকপোস্টের মনিটরে বিশেষ ধরনের ডিজিটাল সংকেত প্রতি মুহূর্তে পাঠাতে থাকবে। এই কার্যক্রম শুরু হতে আরো এক বছর সময়ের প্রয়োজন পড়বে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য যেসব জাহাজ চলাচল করে তার সংখ্যা ২৫৫টি। এগুলো সবগুলোতেই ঐ ডিভাইস স্থাপন করা হবে। অন্যদিকে ২০ হাজার যান্ত্রিক নৌকা বা কান্ট্রি বোটে স্থাপন করা হবে লাইভ ভিডিও পাঠাতে সক্ষম ডিভাইস। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী আরো ৩৪ হাজার ৬০০ অযান্ত্রিক নৌকাকে এ ধরনের ডিভাইসের বাইরে রাখা হবে। কারণ সীমিত গতির কারণে অযান্ত্রিক নৌকাগুলো বঙ্গোপসাগরে সংঘটিত অপরাধ কার্যক্রমে দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করে না। ডিভাইজযুক্ত জাহাজের আশপাশে মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচারের মতো অপতত্পরতায় কোনো জাহাজ লিপ্ত হলে সংকেত মাধ্যমে তা সহজেই বোঝা যাবে। জাহাজে যে ডিভাইস স্থাপন করা হচ্ছে সেটির নাম ভেসেল ট্র্যাকিং মনিটরিং সিস্টেম (ভিটিএমএস) এবং যান্ত্রিক নৌযানে যে ডিভাইস স্থাপন করা হবে তার নাম অটোমেটিক আইডেনটিফাইং সিস্টেম (এআইএস)। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে নৌপুলিশও নিযুক্ত থাকবে।