পাওনা টাকার জন্য সহকর্মীকে খুন পরে জনতার হাতে খুনির এক সহযোগী আটক

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২৩:৩১

পাওনা টাকা না দেওয়ায় নগরীর টানবাজার এলাকায় আরিফ নামে এক হোসিয়ারি শ্রমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই সহকর্মী সোহরাব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন মিরাজ নামে একজনকে ব্যাপক পিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিরাজকে আটক করে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের টানবাজার এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ওয়াকওয়েতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি জব্দ করেছে। নিহত আরিফ শহরের নিতাইগঞ্জ ঋষিপাড়া এলাকায় ভাড়াটে মাটি কাটার শ্রমিক আব্দুল মতিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলম মোস্তফা জানান, আরিফ কিছুদিন আগে সোহরাব হোসেন নামে তার এক সহকর্মীর কাছ থেকে ৭০০ টাকা ধার নেন। সেই টাকা সোহরাব ফেরত চাইলে আরিফ ‘দেই-দিচ্ছি’ বলে ফেরত দেয়নি, বরং সোহরাবের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সোহরাব আরিফকে ডেকে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে মিরাজসহ আরো কয়েকজন যুবক আগে থেকেই উপস্থিত ছিল। পরে সেখানে সোহরাব পুনরায় অরিফের কাছে টাকা চাইলে দুই জনের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আরিফের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সোহরাব ও তার সহযোগীরা। এরপর আরিফের বুকেসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে সোহরাব ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এসময় আরিফের চিত্কারে স্থানীয়রা এসে মিরাজ নামে একজনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আরিফের বড়ো ভাই দেলোয়ার হোসেন সেতু বলেন, ‘আরিফের কাছ থেকে কেউ টাকা পেতেন, সেটা আমরা কেউ জানতাম না। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি জব্দ করা হয়েছে। আটক মিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত সোহরাবসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে দুই জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।