আয়-ব্যয় বিবরণী

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৩

g সাঈদ সাহেদুল ইসলাম

 

খেসারত আলির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষিত হলে নিজের কাছে রাখা মনোনয়নপত্রটি পাড়ার শিক্ষিত তরুণ সবেদ মিয়াকে দিয়ে একবার চেক করিয়ে নিতে চাইলেন। খেসারত আলির ভাষ্য, ‘দেখো বাবা। বড় ডিগ্রি নিয়েছ। ভালো করে দেখো তো কোথায় ভুল ছিল? আগামীতে যেন ওসব ভুল না হয়।’

খেসারত আলিকে বেশ সম্মান করে সবেদ মিয়া। মাঝে মাঝে তার বাসায়ও আসে। সবেদ মিয়া নিজেও মনোনয়নপত্রের ঠিক-বেঠিক খুব একটা বুঝে না, তাই একটু ভয়ে ভয়ে বলল, ‘জি আঙ্কেল, চেষ্টা করছি।’ খেসারত আলি সম্পর্কে সবেদ মিয়া যতটুকু জানে, তার সবই ইতিবাচক। কিন্তু মনোনয়নপত্রে খেসারত আলির আয়-ব্যয়ের বিবরণী দেখে সবেদ মিয়ার চোখ বেরিয়ে আসার মতো অবস্থা। তার পাড়ার খেসারত আলি আঙ্কেলের সম্পদের সাথে আয়-ব্যয়ের বিবরণীর কোনো মিল নেই!

বিষয়টা সাহস করে খেসারত আলিকে বলতে চাইল। কিন্তু মনোনয়নপত্র বিষয়ক অনভিজ্ঞতার কারণে নিজেকে সংযত করল সবেদ মিয়া। তবে বিনয়ের সাথে সবেদ মিয়া বলল, ‘আঙ্কেল, মনোনয়নপত্র যিনিই পূরণ করুন না কেন, এখানে সব বানান ঠিক আছে, সমস্যা নেই।’

নিজের ঘরে ফিরে গৃহিণীকে এবার প্রশ্ন করে সবেদ মিয়া, ‘আচ্ছা বিবি, বলো তো আমরা কি খেসারত আঙ্কেলের চেয়ে বেশি ধনবান?’ তিন্নি এবার মুখটা বাঁকা করে বলল ‘ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখা শুরু করলে নাকি?’

সবেদ মিয়ার স্বাভাবিক জবাব, ‘এক বছরে আমার যা রোজগার, তার থেকে খরচ করে আমার যা থাকে, খেসারত আলি আঙ্কেলের দেখি তারও কম! তাহলে তিনি গত এক বছরে এত বড় বাসা-বাড়ি, কলকারখানা গড়লেন কী করে? ওনার থেকে আমার বেশি টাকা থাকার পরও আমি মধ্যবিত্ত কেন?’

তিন্নি বিবি কিছুটা বিরক্ত, ‘কী সব পাগলের মতো বকবক করছ? তোমার কথার মাথামুণ্ডু বুঝলে তবেই না জবাব দেবো!’

সবেদ মিয়া তর্জমা করে কথাটার, ‘বুঝলে বিবি, খেসারত আঙ্কেলের মনোনয়নপত্রে আয়-ব্যয়ের যে বিবরণী দেখলাম, তাতে এক বছরে তার থেকে আমার সঞ্চয় বেশি। তাই বলছিলাম আর কী!’

তিন্নি বিবি হেসে উঠল এবার, ‘ওটা ভোটের ব্যাপার। নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের কথা না ভেবে বরং নিজের সংসারের প্রতি তোমার মন ও নয়ন দাও, মেয়েটার ভবিষ্যত্ দেখতে হবে তো, নাকি?’