‘পেপারে কালো কালি দিয়ে হেডলাইন করছ পাহাড় ধসে এত জনের মৃত্যু’

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৩

 

—জনৈক পাহাড়

 

১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পাহাড় দিবস। এই উপলক্ষে ঠাট্টার তরফ থেকে পাহাড়ের সাক্ষাত্কার নিতে গিয়েছিলেন ঠাট্টারু সত্যজিত্ বিশ্বাস। পাহাড়ের কাছে থেকে পা নাকি হাড়—কী নিয়ে ফিরলেন, চলুন দেখা যাক

ঠাট্টা :পাহাড় মামা, কেমন আছেন?

পাহাড় :মামা? আমি কবে থেকে মামা হলাম?

ঠাট্টা :না মানে, চাঁদ, সূর্য বড় বড় যারাই আছে তাদের সম্মান দিয়ে মামা ডাকি না? তাই আপনাকেও সেই সম্মান দিয়ে ডাকলাম।

পাহাড় :বাইচলামিটা কম কর।

ঠাট্টা :কী আশ্চর্য, বাইচলামি করলাম কই?

পাহাড় :তোমরা তো রিকশাওয়ালা, বাসের হেল্পার, হোটেল রেস্টুরেন্টের মেসিয়ারকেও মামা ডাকো। কি ডাকো না?

ঠাট্টা :ইয়ে মানে, মামা হলো আদরের ডাক। আপনি যদি পছন্দ না করেন, তাহলে বলে দেন কী বলে ডাকব।

পাহাড় :হইছে, হইছে আর বাইচলামির দরকার নাই। আমার মুডটাই অফ করে দিলা। 

ঠাট্টা :আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, সারা জীবন শুনে আসছি যারা সাইজে বড় তাদের মন বড় হয়। কিন্তু আপনার কাছে এসে তো ধারণাটা পাল্টে গেল।

পাহাড় :কেন, কেন?

ঠাট্টা :সামান্য একটা ডাক নিয়ে আপনার মুড অফ হয়ে গেল?

পাহাড় :ডাক কখনো সামান্য হয়? তাহলে কি আর কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন রাখত? যাহোক ফালতু প্যাঁচাল ছেড়ে ঝেড়ে কাশো তো, আমার কাছে আসার হেতু কি?

ঠাট্টা :পাহাড় দিবস তো চলে এলো। তাই আপনার সুখ-দুঃখ জানতে চলে এলাম। যদি কিছু বলতেন?

পাহাড় :তোমরা মানুষজন এই ‘দিবস’ ছাড়া আর কখনো খোঁজ নিছো আমার!

ঠাট্টা :ইয়ে মানে, ইয়ে...

পাহাড় :এখন আর ইয়ে-ইয়ে করণ লাগব না। দুই-চারটা গান, কবিতা লেখা ছাড়া আমার জন্য সুখের কিছু রেখেছ? আমাকে কাটতে কাটতে তো সাফ করে ফেলছ তোমরা।

ঠাট্টা :একদম ভাববেন না। পাহাড় কাটা বন্ধে শক্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

পাহাড় :কই হচ্ছে? প্রতি বছরই পাহাড়ের পা কেটে হাড় বের করে ফেলছ, আর বর্ষার সময় আমি পা+হাড় বিহীন অবস্থায় ধসে পড়ছি মানুষের উপর। তারপর দিনই পেপারে লাল কালি দিয়ে হেডলাইন করছ পাহাড় ধসে এত জনের মৃত্যু। তুমিই বলো, আমি তোমাদের উপর পড়ি নাকি তোমরা আমাকে পড়ার জন্যই এমন ব্যবস্থা কর? 

ঠাট্টা :এমন অবস্থা নিশ্চয়ই আর হবে না। নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। 

পাহাড় :হাঃ হাঃ হাঃ! এই ঠাট্টাটা ভালো ছিল। প্রতি বছরই তো এ কারণে পাহাড় ধসে কত মানুষ মারা যাচ্ছে। তদন্ত কমিটি হচ্ছে। তারপর কোন পক্ষ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?  

ঠাট্টা :ইয়ে মানে...

পাহাড় :ওই ‘ইয়ে’ পর্যন্তই তোমাদের কাজ শেষ। তারপরের বছর আবার নতুন উদ্যমে পাহাড় কাটা শুরু। আবার মানুষ হত্যা। পাহাড় খেকো কিছু চিহ্নিত অবৈধ দখলদারের কাছে তোমরা জিম্মি। যেভাবে পরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে কেটে বসতি হচ্ছে তাতে আর একটা পাহাড়ও থাকবে না। সব কেটে সাফ করে ফেলা হবে। ভয়ানক বিপর্যয় নেমে আসবে তোমাদের উপর। তোমরা কি এটা বুঝেও বোঝো না?  

ঠাট্টা :তদন্ত টিম তো রিপোর্ট করে।  

পাহাড় :তারপর কি হয়? ‘তদন্ত’ টিমের ‘দন্ত’ ভেঙে যায়? 

ঠাট্টা :আপনি তো সবই জানেন।

পাহাড় :জানি বলেই তো বার বার সাবধান করে দিচ্ছি। এখনো সময় আছে তোমরা মানুষরা ভালো থাকতে চাইলে পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দাও। সামান্য কিছু লোভী, কাপুরুষের কাছে এভাবে হেরে যেও না। 

ঠাট্টা :পাহাড় দিবস উপলক্ষে আপনি কি কোন মেসেজ দিতে চান?

পাহাড় :পাহাড়ের মতো বিশাল মন নিয়ে তোমরা মানুষ হও। মান আর হুঁশ সম্মত মানুষ। 

ঠাট্টা :আচ্ছা আপনার যখন এমন অবস্থা হয় তখন কী করেন? 

পাহাড় :‘পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা তাকে ঝরনা বলো, ওই পাহাড়টা বোবা বলেই কিছু বলে না

তোমরা কেন বোঝ না যে, কারো বুকের দুঃখ নিয়ে কাব্য চলে না।’—এই গানটা শুনি।

ঠাট্টা :মামা, আপনি কি আপসেট?

পাহাড় :আবার ছাগলের মতো ম্যা ম্যা করলে আমার গা থেকে ডাউনসেট করে দেব কিন্তু।

ঠাট্টা :আপনি কিন্তু শুরু থেকেই শুধু শুধু আমার উপর খেপছেন। আমি এসেছি ঠাট্টা থেকে আপনার ইন্টারভিউ নিতে, কই খাতির যত্ন করবেন, তা না... 

পাহাড় :কী বললে, কই থেকে?

ঠাট্টা :ফান ট্যাবলয়েড ঠাট্টা থেকে।

পাহাড় :আমার সাথে ঠাট্টা করতে আসছিস? আমি ফান করার বিষয়?

ঠাট্টা :আমি আপনাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলছি। 

পাহাড় :এক থেকে তিন বলার মধ্যেই নামবি আমার গা থেকে? নাহলে এমন গাট্টা মারব, গড়াতে গড়াতে কোথায় গিয়ে পড়বি কেউ আর খুঁজে পাবে না।

ঠাট্টা :অবশ্যই নামব, এখানে তো থাকতে আসিনি। কিন্তু আপনি আমাকে তুই তুই করে বলা শুরু করলেন কেন? আর থ্রেটই বা দিচ্ছেন কেন? আসল পাহাড়ের তো মন বড় হয়, আপনি তাহলে ফলস পাহাড়? 

পাহাড় :এক, দুই... 

ঠাট্টা :ইয়ে, আজকের মতো এখানেই...