চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, অপহরণসহ ভাঙচুর অবরোধ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:১৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলে রুম দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। 

এদিকে বিজয় গ্রুপ সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের বহিষ্কার চেয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছে। তারা নগরীর বটতলী রেলস্টেশন থেকে লোকোমাস্টার খুরশিদ আলমকে অপহরণ করে ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দিয়েছে। ফলে সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া শিক্ষক বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ায় পরিবহন দপ্তর থেকে কোনো বাস শহরে যেতে না পারায় বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল।

শাটল ট্রেনের হোসপাইপ ভেঙে ফেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা।

রাতের ঘটনায় আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১০-১১ শিক্ষাবর্ষের মো. ইলিয়াছ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ওবায়দুর রহমান লিমন, লোক প্রশাসন বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নিলয় হাসান, পরিসংখ্যান বিভাগের ১০-১১ বিভাগের মাহফুজুর রহমান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রিয়াম রায় প্রান্ত। তারা সকলে বিজয় গ্রুপে কর্মী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। 

অন্যদিকে দুপুরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সিএফসি গ্রুপের কর্মী ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শোয়েবুর রহমান কনককে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা কুপিয়ে আহত করে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চবি মেডিক্যাল সেন্টার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

জানা গেছে, কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী হলে সিএফসি গ্রুপের কর্মীদের রুম দখলে নেয় বিজয় গ্রুপের কর্মীরা। এ সময় তারা হল থেকে বিতাড়িত হয়। পরে শনিবার রাতে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা তাদের রুম ফের দখলে নিলে দুগ্রুপে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিজয় গ্রুপকে সোহওয়ার্দী হল থেকে বিতাড়িত করে আলাওল হলের দিকে সিএফসি গ্রুপ ধাওয়া দেয়। এ সময় সিএফসি গ্রুপ আলাওলের সামনে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম তারেকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তার মত একজন অছাত্রের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতি কখনো সফল হবে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং দ্রুত তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার জন্য  কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তাকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আমাদের অবরোধ চলবে।

আরও পড়ুন: মসজিদের বাথরুমের ছাদ থেকে ১৩ ককটেল উদ্ধার

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিজয়ের নেতা মো. ইলিয়াস দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরোধিতা করে আসছেন। গত রাতে কোনো কারণ ছাড়াই সোহরাওয়ার্দী হলে গিয়ে সে আমার কর্মীদের হুমকি দেন। পরে কর্মীরা একত্রিত হয়ে তাকে প্রতিহত করে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, দুপক্ষের সিনিয়রদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হচ্ছে এবং ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বেলাল উদ্দিন উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। 

ইত্তেফাক/অনি