শিক্ষার প্রদীপ ‘আলোর কণা’

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৬

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

 

নীলফামারীতে শিক্ষায় আলো ছড়াচ্ছে ‘আলোর কণা ফ্রি পাঠদান কেন্দ্র’। নীলফামারী জেলা শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে জলঢাকা সদরের দুন্দিবাড়ি এলাকায় পাঠশালাটি যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। ৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও সাড়ে ৪ বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২শ’ জনে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দরিদ্র পরিবারের এসব শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন জলঢাকা সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যায়ের ৭ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের উত্সাহ প্রদানে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, হাতের সুন্দর লেখা, উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে বিভিন্ন সময়ে। বিজয়ীদের দেওয়া হয় পুরস্কারও। পালন করা হয় বিভিন্ন জাতীয় দিবস। টিনের দু-চালা বিশিষ্ট বাঁশের বেড়ায় ঢাকা পাঠশালাটিতে রয়েছে একটি গ্রন্থাগার এবং সত্ মানসিকতা প্রস্ততে সততা স্টোর।

পাঠদানে নিয়োজিত জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী আতিকা আকতার বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এখানে। ঘরের ভেতর চটে বসিয়ে পাঠদান করা হয় শিক্ষার্থীদের। বাইরেও পাঠদান করা হয় দলবদ্ধভাবে।’

একই কলেজের ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত আলোর কণার শিক্ষক লিপসি খাতুন বলেন, ‘এখানে যারা আসে সবাই দরিদ্র হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। শিক্ষার্থীদের উত্সাহ প্রদানের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করে তাদের খাতা, কলম প্রদান করা হয়। আমরা যে শুধু পাঠদান করাচ্ছি তা কিন্ত নয়। এর ফলে আমরাও উপকৃত হচ্ছি। আমাদেরও চর্চা হচ্ছে। ভবিষ্যতে চাকরির জন্য আমরা প্রস্ততি নিচ্ছি এখান থেকে।’

জানা যায়, শুধু জলঢাকা শহরের দুন্দিবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া এলাকাতেই নয়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে আরো ১০টি ফ্রি পাঠদান কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি কেন্দ্রে অন্তত ১শ’ জনকে পড়ানো হয়। ফ্রি কেন্দ্রে শিক্ষা নিতে আসা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাকিব হোসেন জানায়, তারা সকালে এখানে এসে পড়া শেষ করে বাড়িতে ফিরে যায়। গোসল ও খাওয়া শেষে স্কুলে যায়। এখানে এসে পড়াশোনার প্রতি আরো আগ্রহ বেড়েছে তাদের। প্রতিযোগিতায় অংশও নেয় নিয়মিত।

জলঢাকা ডিগ্রি কলেজে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফুয়াদ হোসেন, হিরণ রায় ও লিওন ইসলামের উদ্যোগে ২০১৫ সালে আলোর কণা ফ্রি পাঠদান কেন্দ্রটি চালু করা হয়।

প্রধান উদ্যোক্তা ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সাত ভাই-বোন। বাবা ছোট একটি ব্যবসা করেন। অর্থাভাবে সবাই পড়াশোনা করতে পারেনি। ২০১২ সালে যখন আমি এসএসসি পাস করি তখন এ রকম একটি কেন্দ্র চালু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। পরে ২০১৫ সালে তিন বন্ধু মিলে এটি শুরু করি এবং এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমরা পড়াচ্ছি শিশুদের, কিন্তু নিজেদের শিক্ষক মনে করি না। শিক্ষার্থীদের আমাদের ভাইয়া বলে সম্বোধন করতে বলেছি।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল ভৌমিক বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে ভালো। সেখানে বিনামূল্যে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। গোটা দেশে আলোর কণা একটি অনুকরণীয় কেন্দ্র হতে পারে। এজন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করি।’