আজ থেকে ভারতীয় দর্শকরা দেখবেন বিটিভি ওয়ার্ল্ড
তানভীর তারেক
দীর্ঘদিন পর হলেও শিল্পী-কলাকুশলীদের প্রাণের দাবি পূরণের দিন আজ। দেশীয় চ্যানেল ভারতে প্রদর্শনের ব্যাপারে যে দাবি ছিল শিল্পী-কলাকুশলীদের তা পূরণ হতে চলেছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টা (আনুমানিক) থেকে বিটিভি ওয়ার্ল্ড ভারতীয় দর্শকরা তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট ফ্রিকোয়েন্সিতে দেখতে পাবেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘ডিটিএইস প্রযুক্তিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ভারতে দেখা যাবে বিটিভি ওয়ার্ল্ড। যদিও প্রযুক্তিগত কিছু সমন্বয়ের কারণে সময়ের কিছুটা হেরফের হতে পারে।’
এ উপলক্ষে কোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে না বিটিভি কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে বিটিভির কর্মকর্তা বলেন, ‘যেহেতু দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে, তাই সম্প্রচারের ক্ষেত্রে শব্দ ও ছবির মানের ব্যাপারেও কিছুটা সময় নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে এখনই আড়ম্বরপূর্ণ কোনোকিছু করার কোনো পরিকল্পনা নেই।’
এদিকে জানা যায়, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ভারতে প্রচার উপলক্ষে আগামীকাল ইত্যাদির বিশেষ পর্ব পুনঃপ্রচার করা হবে। এছাড়া আজ বিকেল ৩টায় সরাসরি গানের অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকগীতি থেকে শুরু করে বিশিষ্ট শিল্পীদের সমন্বয়ে একটি সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার হবে। মূলত আজকের বিকেল ৩টার সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটিই সেলিব্রেশন অনুষ্ঠান হিসেবে প্রচার করবে বিটিভি ওয়ার্ল্ড।
অধিকাংশ শিল্পীই বিষয়টি জানার পর অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিটিভি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে। কারণ বিজ্ঞাপন, বিপণন থেকে শুরু করে কলকাতার বাংলা নাটক, রিয়েলিটি শোর চাহিদা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে এক ধরনের অসামঞ্জস্যতা চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। সেক্ষেত্রে বিটিভি ওয়ার্ল্ড ভারতে প্রদর্শনের আজকের দিনটি দীর্ঘদিনের এক অচলায়তন ও পুরোনো তর্কের অবসান ঘটাবে বলে সকলে মনে করছেন। এদিকে শুধুমাত্র বিটিভিতেই দুই যুগের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটি। দেশীয় চ্যানেলের এই নতুন দ্বার উন্মোচনের দিন প্রসঙ্গে বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত বলেন, ‘এটা অবশ্যই সুখবর। আমাদের মতো নির্মাতা এবং দর্শকদের জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জের। আর দীর্ঘসময় ধরে এই বিটিভির মাধ্যমেই আমি দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে আসছি। এখন থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে দেখা যাবে, তা আনন্দের খবর তো বটেই। কারণ ইত্যাদির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ইউটিউবে দর্শকরা দেখে থাকেন দেশে-বিদেশে। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ভারতীয় দর্শকদের মেসেজ, চিঠি ও ক্লিপিংস আমরা পাই প্রচারের অনুরোধ জানিয়ে। ভারতীয় দর্শকদের ইত্যাদির প্রতি ভালোবাসাই এটা প্রমাণ করে। তাই এ উদ্যোগের ব্যাপারে বিটিভি কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সকল কলাকুশলীকে আমি অভিনন্দন জানাতে চাই। তারা আমাদের মতো সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য সত্যিই বড় একটি আনন্দের বার্তা দিলেন।’
টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ইরেশ জাকের বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি আমাদের সকলের জন্য দারুণ এক আনন্দের সংবাদ। এখন আমাদের নিজেদের অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নের পাশাপাশি এই যে অনুষ্ঠান প্রদর্শনের ক্ষেত্রটা যে বৃদ্ধি পেল এটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের বাংলা নাটক, গান, সিনেমাকে দুই দেশে সমানভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বিটিভির মহাপরিচালক এই শুভদিনে নতুন কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা বা যৌথভাবে ভারত-বাংলাদেশের কোনো অনুষ্ঠান প্রযোজনার পরিকল্পনা করছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি পরের বিষয়। আপাতত আমরা অনুষ্ঠানগুলো দর্শকদের যাতে মানসম্পন্ন দৃশ্য-শব্দে দেখাতে পারি সেটি সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
এরপর অনেক পরিকল্পনা তো রয়েছেই। এটি মূলত দূরদর্শনের ফ্রিকোয়েন্সিতে চলবে। তাদের ফ্রিকোয়েন্সিতে প্রায় শতাধিক চ্যানেল এখন চলমান। সেখানে বিটিভি ওয়ার্ল্ড এখন অনায়াসেই ব্রাউজ করলেই ভারতীয় দর্শকরা দেখতে পাবেন আজ থেকে।’
