নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিন। সম্প্রতি প্রচার শুরু হয়েছে তার প্রথম ধারাবাহিক নাটক। পাশাপাশি রয়েছে একক নাটকের ব্যস্ততা। কাজের প্রসঙ্গের পাশাপাশি নাটকের বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
সম্প্রতি আপনার নতুন ধারাবাহিক প্রচার শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলুন—
এটাই আমার প্রথম ধারাবাহিক। নাটকের শিরোনাম ‘তোমার গল্পে আমি’। এটি প্রচার হচ্ছে প্রতি রবি ও সোমবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাভিশনে। আর নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এটা রোমান্টিক গল্পের একটি ধারাবাহিক। সাধারণত আমি রোমান্টিক গল্পে বেশি কাজ করি। এটাই আমার কমফোর্ট জোন। তাই ধারাবাহিকেও রোমান্টিক ফ্লেভার রেখেছি। আমাদের দেশে রোমান্টিক ফ্লেভারের ধারাবাহিক নাটক হয় না বললেই চলে।
বেশিরভাগই ফ্যামিলি ড্রামা অথবা কমেডি।
প্রধান চরিত্রে অপূর্ব-মম এবং তৌসিফ-তানজিন তিশা কেন? কাস্টিং কম হয়ে গেল না?
তারা প্রধান চরিত্র। কিন্তু তাদের ঘিরে আরো অনেক চরিত্র থাকবে। আসলে আমাদের দেশে সাধারণত অনেকগুলো প্রধান চরিত্র নিয়ে ধারাবাহিক নির্মাণ হয়। সবারই গল্প থাকে। তাই দর্শক একেক সময় একেকজনের গল্প দেখে, এতে দর্শকের মনোযোগ হারিয়ে যায়। কারণ গল্পটি একরৈখিক থাকে না, বহুরৈখিক হয়ে যায়। যেমন ধারাবাহিক হচ্ছে উপন্যাসের মতো। উপন্যাসে কিন্তু একটা নির্দিষ্ট গল্প থাকে। তাই পড়ে ভালো লাগে। আমিও চেষ্টা করেছি, নির্দিষ্ট গল্প রাখতে। যাতে দর্শকের আগ্রহ জমে থাকে।
এখনকার ধারাবাহিক নাটকগুলোতে গল্পের ধারাবাহিকতা থাকে না। সেক্ষেত্রে আপনার ধারাবাহিকটি নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
আমি পুরোপুরি আশাবাদী। কারণ আমি আমার সিরিয়ালের শেষ পর্বের শেষ দৃশ্যটি কী হবে, সেটা জানি। তাই বলতে পারি গল্পের ধারাবাহিকতা পুরোপুরিই বজায় থাকবে।
সাধারণত আপনার নাটকের গল্প আপনি নিজেই লেখেন। অন্য নাট্যকারদের গল্প নিয়ে কম কাজ করার কারণ?
আসলে আমি তো মূলত লেখক। নির্মাণে অনেক পরে এসেছি। আমার নিজের লেখা পাণ্ডুলিপি যখন নির্মাতাদের দিতাম, তারা নির্মাণের পর নাটক দেখে অনেক সময় হতাশ হতাম। সেই হাতাশা থেকেই আমি নির্মাণে এসেছি। তাই বলে যে আমি অন্য নাট্যকারের লেখায় কাজ করি না—ব্যাপারটা এমন না। দয়াল সাহার রচনায় ‘উগান্ডা মাসুদ’ নির্মাণ করেছি।
ইদানিং টিভি নাটকের মান নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
সমালোচনা কিছু ক্ষেত্রে যৌক্তিক, কিছু ক্ষেত্রে অযৌক্তিকও বটে। গল্পের বৈচিত্র্য কম একথা সত্যি। আর এজন্য আমাদের নাটক প্রচার সংস্থাগুলো দায়ী। টেলিভিশন তো বটেই, অনলাইন প্লাটফর্মগুলোও দায়ী। এই যে ৫ দিন, ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হয়। কেন? কী দরকার? এতদিন কী ঈদের আমেজ সত্যিই থাকে? থাকে না। মানুষ অফিস-আদালত শুরু করে দেয়, আমাদের ঈদের অনুষ্ঠান শেষ হয় না। তো এতদিন প্রচারের জন্য একেকজন শিল্পীর ৩০/৪০টি নাটক লাগে। জনপ্রিয় নির্মাতারা ৭/৮টি করে নাটক নির্মাণ করেন। কোনো কোনো নির্মাতার ডজনও ছাড়িয়ে যায়। কোরবানির ঈদের সময় যেমন রাস্তায় গরু দেখলেই পথচারিরা জানতে চায় কত? ঈদের সময় নির্মাতাদের দেখলেই সবাই প্রশ্ন করে এবার ঈদে কয়টা? নির্মাতারাও বুক ফুলিয়ে উত্তর দেয় এতটা।
এখন তো ফেসবুকে প্রচুর মতামত, বিভিন্ন গ্রুপ, সবাই নাট্যবোদ্ধা। এ বিষয়টা কিভাবে দেখেন?
ব্যাপারটা আর ভদ্রতার জায়গায় নেই। আমি অনেক নির্মাতার খবর জানি, যারা নিজেরা প্রচুর ফেক আইডি চালায়। অনেকের আবার পেইড বাহিনী আছে। ফেসবুকে আসলে অসুস্থ চর্চাই বেশি হচ্ছে। এর বাইরে যারা সত্যিকার অর্থেই নাটকের ভক্ত, তারা অনেক পজেটিভভাবে প্রচার-প্রচারণা করেন, নিজেদের মন্তব্য প্রকাশ করেন। এটা খুবই ভালো। আবার কিছু মানুষ আছেন নিজেকে নাটকের বিশাল সমালোচক মনে করেন, খুব পাত্তা পেতে চায়। আবার কিছু সমালোচক তৈরি হয়েছে শুধুই নির্দিষ্ট কিছু নির্মাতার নাটকের প্রশংসা করার জন্য। আসলে কে সাধু আর কে অসাধু এটা একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়।
