আল আমিনের বোলিং ঝলক

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:১৯

প্রস্তুতি ম্যাচ

জাকির হোসেন লুলু, চট্টগ্রাম অফিস

বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের প্রথম দিনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সফরকারী আফগান ক্রিকেট দল। তবে বিসিবি একাদশের বোলার আল-আমিন অনেকটা ক্যারিশমা দেখিয়েছেন স্পিন আক্রমণে। দিনশেষে আল-আমিন অবশ্য বলছিলেন, আফগানিস্তানকে অলআউট করা উচিত ছিল তাদের। কিন্তু আফগানিস্তান একাদশ ৬ উইকেটে ২৪২ রান তুলেছে।

সকালের সেশনে যখন পেস আক্রমণে কোনো কাজ হচ্ছিল না, পরের সেশনে আক্রমণে এসে সফল হন আল-আমিন। স্পিনে টার্ন নেওয়ায় আফগানদের রানের চাকা স্লথ হয় কিছুটা। আল-আমিনের ঘূর্ণিতে অনেকটা কাবু হয়ে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন। তবে দিনশেষে আল-আমিনের আক্ষেপ তাদের অলআউট করতে পারলেই স্বস্তিতে থাকতে পারতাম। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই দলের মধ্যকার প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে বিসিবি একাদশের নেওয়া ছয় উইকেটের মধ্যে আল-আমিন নিয়েছেন চার উইকেট।

দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছিল আফগানিস্তান। তবে দুই জনই স্বেচ্ছায় মাঠ ছাড়ার পর বল হাতে ঝলক দেখাতে শুরু করেন অলরাউন্ডার আল-আমিন। তার ঘূর্ণি জাদুতে পরাস্ত হয়েছেন সফরকারী দলের চার ব্যাটসম্যান।

ব্যাটিংয়ে নেমে দুই আফগান ওপেনার ইহসানুল্লাহ ও ইব্রাহীম জাদরান মিলে দুর্দান্ত জুটি গড়েন। তবে ৬২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে যান ইহসানুল্লাহ। আর ৫২ রান করে একইভাবে মাঠে ছাড়েন ইব্রাহীম। ওপেনিং জুটির সমাপ্তির পর থেকেই আফগান ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন বিসিবি একাদশের বোলাররা। প্রথমে জাভেদ আহমাদিকে দ্রুত বিদায় করেন বিসিবি একাদশের সুমন খান। এরপর রহমত শাহকে তুলে নিয়ে উইকেট দখলের মিছিলে যোগ দেন আল-আমিন। আফগানিস্তানের মিডল অর্ডার ও লোয়ার মিডল অর্ডারে একের পর এক আঘাত হানেন সুমন ও আল-আমিন। তবে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে কিছুটা সামলে নিয়েছিলেন আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। এছাড়া ২৬ রান এসেছে হাশমতুল্লাহর ব্যাট থেকে। ২০ রানে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক রশিদ খান।

বল হাতে চার উইকেট তুলে নিতে ৫১ রান খরচ করেছেন আল-আমিন। আর ২১ রান খরচে দুই উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন সুমন।

দিন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ‘তাদের অলআউট করা উচিত ছিল আমাদের। শুরুতেই আমাদের পেসারদের ডমিনেট করার কারণেই তাদের ব্যাটসম্যানরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন। পেস বোলাররা তেমন কোনো সুবিধা আদায় করতে পারেনি বলেই তারা সফল হয়েছেন প্রথম দিনে। স্পিনে তারা অনেকটা দুর্বল। সেটা আমরা কাজে লাগিয়েছি। তাতে অনেকটা সফল হয়েছি।’

স্পিনেই শেষ পর্যন্ত সাফল্য আসার ব্যাপারটা নিয়ে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘চেষ্টা করে দেখছিলাম কোনো ধরনের কাজ হয় কী না। কিন্তু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবীর অভিজ্ঞতার কারণে সফল হয়নি আমাদের পেস অ্যাটাক। আজ সোমবার সকালে আমরা স্পিন অ্যাটাকে তাদের উইকেটের পতন ঘটাতে চেষ্টা করব। পরবর্তী পর্যায়ে ব্যাটিংয়ে দেখা যাবে কী করা যায়। আমাদের ব্যাটিং লাইনও ভালো। সম্মিলিতভাবে চেষ্টা চালালে সাফল্য আসাটা অসম্ভব নয়। আজকের দিনটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শুরুতেই চার উইকেটের পতন ঘটাতে হবে। আমাদের বোলারদের ধৈর্যচ্যুতি হওয়াটা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। ধৈর্যের সাথে বোলিং করলেই তাদের ফিরাতে পারব ইনশাল্লাহ।’