‘হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব কোহলির’

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

জসপ্রিত বুমরাহ বেশ কিছুকাল ধরেই ভারতীয় পেস বোলিংয়ের অন্যতম অস্ত্র। তবে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনি নতুন করে যেন নিজেকে চেনাচ্ছেন। আগের টেস্টে ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরো একবার ধসিয়ে দেওয়ার পথে ১৬ রানে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার চেয়ে বড়ো কথা মাত্র তৃতীয় ভারতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন বুমরাহ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৭ রান তুলেছে ৭ উইকেট হারিয়ে। এর আগে ভারতীয় দল হনুমা বিহারির ১১১, বিরাট কোহলির ৭৬ এবং ইশান্ত শর্মার ৫৭ রানে ভর করে ভারত অলআউট হওয়ার আগে ৪১৬ রান করে। বুমরাহ তার নবম ওভারে এসে ড্যারেন ব্র্যাভো, সামারাহ ব্রুকস এবং রোস্টন চেসের উইকেট তুলে নেন পরপর তিন বলে। আর এই হ্যাটট্রিকের জন্য এই ফাস্ট বোলার কৃতিত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ব্র্যাভো ও ব্রুকসকে আউট করার পর চতুর্থ বলে চেজের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বুমরাহ। কিন্তু অনফিল্ড আম্পায়ার সে আবেদন ফিরিয়ে দেন। বুমরাহ নিজে রিভিউ নিতে খুব আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু কোহলি চিত্কার করে রিভিউ নিতে বলেন। এর ফলেই হরভজন সিং ও ইরফান পাঠানোর পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে হ্যাটট্রিক হয়ে যায় বুমরাহর।

ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বুমরাহ বলেছেন, ‘আসলে আমি বুঝতে পারিনি। আমি আপিল নিয়ে খুব একটা নিশ্চিত ছিলাম না। আমি ভেবেছিলাম, বল আগে ব্যাটে লেগেছে। ফলে খুব বেশি আবেদনও করিনি। কিন্তু রিভিউ নেওয়াটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। আমি এই হ্যাটট্রিকের জন্য অধিনায়কের কাছে কৃতজ্ঞ।’

এই ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোহলি নিজে বলেছেন, এটা নিয়ে বেশ ভেবেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে, ‘হ্যাঁ, আমাদের আলাক করতে হয়েছে। আমি ওকে (বুমরাহকে) জিজ্ঞেস করলাম, সে কী মনে করে। ও কি মনে করে যে, বল উইকেটে লাগত? আমার কাছে একমাত্র প্রশ্ন ছিল, বল লাইনে ছিল কি না। ও আমাকে বলল, ‘সবকিছুই উইকেটের সামনে ছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, বল ব্যাটে লেগেছে।’ ফলে আমরা আলোচনা করলাম। জিংকস (রাহানে) আর আমি একমত ছিলাম, যে সে (চেজ) বল পরে খেলেছে। ফলে আমরা রিভিউ নিলাম। আর দেখা গেল, আমরা ঠিক চিন্তা করেছিলাম।’

এই সফর জুড়েই বুমরাহসহ ভারতীয় ফাস্ট বোলাররা দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন। এই সাফল্যের রহস্য বলতে গিয়ে বুমরাহ বলেছেন, ‘মাঠে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ খুব ভালো হচ্ছে। আমি যখন উইকেট পাচ্ছি, অন্য কেউ অন্য প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করছে। আমার অন্য কেউ উইকেট পেলে আমার কাজ তখন চাপ তৈরি করা। খুব ভালো যোগাযোগ ও সহযোগিতার মানুষিকতা থাকলে উইকেটে কিছু না থাকলেও আমরা উইকেট নিতে পারি।’

বুমরাহ বলছেন, তাদের এখন সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো, পেস বোলারদের অভিজ্ঞতা। সেটা নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘ইশান্ত ৯০-এর ওপরে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। শামিও অনেক টেস্ট খেলেছে। ফলে মাঠে আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়।’