স্পোর্টস রিপোর্টার
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামেই রবিবার গোটা দিন কেটেছে আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের। গতকাল বিসিবি একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন রশিদ খান- মোহাম্মদ নবীরা। অন্যদিকে গতকাল বিশ্রামে ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। টানা দুদিন মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর গতকাল বিশ্রামেই সময় কেটেছে সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমদের। তবে দিনের শেষভাগে চট্টগ্রাম যাত্রায় নেমে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে।
গতকাল বিকেল পাঁচটার ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গেছে বাংলাদেশ টেস্ট দল। ছয়টার আগেই বন্দরনগরীতে পৌঁছে যায় টাইগাররা। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান একমাত্র টেস্ট।
গতকাল ঢাকায় বিমানবন্দর ছাড়ার আগে বাংলাদেশের তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, আফগান দলের কোনো ক্রিকেটারকেই হুমকি মনে করছে না বাংলাদেশ। হোম কন্ডিশনে টেস্ট বলে নিজেদের ভালো সুযোগ দেখছেন মিরাজ।
কন্ডিশনিং ক্যাম্পে আঙুলের ইনজুরিতে পড়েছিলেন মিরাজ। যে কারণে প্রস্তুতি ম্যাচেও বোলিং করতে পারেননি তিনি। তবে টেস্ট শুরুর আগে বোলিং করার মতো ফিট হয়ে যাবেন মিরাজ।
প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন বাংলাদেশের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। সীমিত ওভারের ফরম্যাটে কিছু সাফল্য থাকলেও আফগানিস্তান দলটা টেস্টে নবীন। তারপরও তাদের স্পিন আক্রমণ বেশ সমীহ জাগানো। অধিনায়ক ও লেগ স্পিনার রশিদ খানের সঙ্গে অভিজ্ঞ অফস্পিনার মোহাম্মদ নবী রয়েছেন। ‘এ’ দলের হয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে ভালো করা লেগ স্পিনার কায়েস আহমেদও টেস্ট দলে রয়েছেন। ব্যাটিংয়ে ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান, রহমত শাহ, হাসমতউল্লাহ শাহিদী, আজগর আফগানরা দলটির বড়ো ভরসা।
অবশ্য আফগানদের কাউকেই বড়ো হুমকি মনে করছে না বাংলাদেশ। গতকাল কোনো ক্রিকেটারকে হুমকি মনে করছেন কিনা জানতে চাইলে মিরাজ সাংবাদিকদের অকপটে বলেছেন, ‘না কেউ নেই।’
টেস্টে শতভাগ দিতে পারলে নিজেদের ভালো সুযোগ দেখছেন মিরাজ। তরুণ এই অলরাউন্ডার গতকাল বলেছেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো শতভাগ দেওয়ার জন্য। আর আমাদের সুবিধা থাকবে, আমাদের দেশের মাটিতে খেলা, আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারি তাহলে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে। প্রায় ছয় মাস পর টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। মিরাজের আশা, টেস্টের প্রস্তুতি ক্যাম্পে করা কঠোর পরিশ্রমের কারণেই ভালো ফল পাবে বাংলাদেশ।
গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবাই ভালো অনুশীলন করেছি। সবাই ১০-১২ দিন মিলে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছে। সবাই যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে আশা করছি তার ফলটা পাওয়া যাবে।’
ইনজুরির পাকচক্র পেরিয়ে টেস্ট দলে এসেছেন তাসকিন আহমেদ। এবার চট্টগ্রাম টেস্টে একাদশে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিতে চান ডানহাতি এই পেসার। গতকাল বিমানবন্দরে তিনি বলেছেন, ‘সুযোগ পেয়েছি চেষ্টা করবো সেরাটা দেওয়ার, ইনশাল্লাহ। আমি খুবই উদ্দীপ্ত যে অনেকদিন পর সুযোগ পেয়েছি। সবাই দোয়া করবেন যেন সুস্থ থেকে সুযোগ পেলে ভালো খেলতে পারি।’
