তারিক হাসান
জাপানের তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনায় কি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছিল? উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদের গুমনামি বাবাই কি নেতাজি? এই বিতর্কের শেষ নেই। ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। খবরে প্রকাশ ছিল সেই দুর্ঘটনায় নাকি নেতাজি গুরুতর জখম হন। পরে সেখানকার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জাপানের রেনকোজি মন্দিরে তার চিতাভস্ম রাখা আছে। যদিও অধিকাংশ ভারতবাসীই এই তথ্য মানতে নারাজ। ভারতের স্বাধীনতার পর নেতাজির বিষয়ে জানতে ভারতে একাধিক কমিশন হয়েছে। তবে সে সব কমিশনের তদন্ত থেকে কোনো সিদ্ধান্তেই আসা যায়নি। ভারত সরকারের কাছে এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ, প্রামাণ্য নথি আসেনি, যার ভিত্তিতে বলা যায় নেতাজি মৃত। ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকুতে কোনো দুর্ঘটনাই ঘটেনি বলে তাইওয়ান সরকার নেতাজি বিষয়ে গঠিত মুখার্জি কমিশনকে জানানোয় রহস্য ঘনীভূত হয়।
ভিন্ন পরিচয়ে রাশিয়ায় নাকি বন্দি ছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় রাশিয়ায় নেতাজি রহস্যের খোঁজে গিয়েছিলেন ইতিহাসবিদ পূরবী রায়। সেখানে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত নেতাজির অস্তিত্বের খোঁজ পেয়েছিলেন। কেজিবি জানিয়েছিল বাকিটা জানতে হলে ভারত সরকারের তরফে অনুরোধ আসতে হবে। তা আর যায়নি। এসবের মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়ে তুলেছে সৃজিত্ মুখার্জি নির্দেশিত সিনেমা ‘গুমনামি বাবা’র টিজার প্রকাশের পর। নেতাজির পরিবারের অনেকেই গুমনামি বাবার সঙ্গে নেতাজিকে জড়িয়ে ফেলার প্রতিবাদ করেছেন। তাদের দাবি, এটা ঠিক হচ্ছে না।
আর সেই আগুনে ধৃতাহুতি দিয়েছে গত ১৮ আগস্ট ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) বিবৃতি। সেখানে ১৯৪৫ সালের ওই দিনটিকে নেতাজির প্রয়াণ দিবস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি এবং জাতীয় কংগ্রেস নেতারাও নেতাজির মৃত্যুদিন হিসেবে এই দিনটিকে স্মরণ করেছেন। যার জেরে ভারত জুড়ে নেতাজি রহস্য নিয়ে বিতর্ক ফের নতুন মাত্রা পেয়েছে। কোন সূত্রে পিআইবি এই বিবৃতি দিয়েছে তা অবশ্য জানানো হয়নি।
এরপরই ট্যুইট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ভারত সরকারে হেফাজতে থাকা নেতাজি-সংক্রান্ত গোপন নথি (ক্লাসিফায়েড ফাইল) দেশবাসীর কাছে উন্মুক্ত করার আর্জি জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘আজকের দিনেই ১৯৪৫ সালে নেতাজি তাইহকু বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন। আমরা আজও জানি না এরপর কী হয়েছে। দেশমাতৃকার এই বীর সন্তানের বিষয়ে জানার অধিকার সব দেশবাসীর রয়েছে।’ ২০১৫ সালে কলকাতা পুলিশের হাতে থাকা নেতাজি বিষয়ক ৬৪টি ক্লাসিফায়েড ফাইল সাধারণের জন্য প্রকাশ করে দেন মমতা ব্যানার্জি। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের ভারত সরকার যাতে তাদের হেফাজতে থাকা ১৩০টি ক্লাসিফায়েড ফাইল প্রকাশ করে, তারও দাবি তোলেন। সেই ফাইল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
