বিআরটিএর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করুন

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২১

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন ছাড়া কোনো মোটরযান আইনত সড়কে চলাচল করতে পারে না। ড্রাইভিং লাইসেন্স জনসম্পৃক্ত একটি বিষয়। এর সঙ্গে অসংখ্য মানুষের পেশাও জড়িত। তাই হঠাত্ করে এ কার্যক্রম বন্ধ হওয়া দায়ত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। এমনটিই ঘটেছে, শুধু গাফিলতির জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিআরটিএ ভবিষ্যত্ চাহিদা নির্ধারণ করে আগাম ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিআরটিএর কাছে জমা আছে ছয় লাখ লাইসেন্সের আবেদন। এর বাইরে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুধু মুদ্রণের জন্য সম্ভব হচ্ছে না ১ লাখ ৮০ হাজার লাইসেন্স দেওয়া। সব মিলিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্তিতে এক ধরনের জট সৃষ্টি হয়েছে। বিআরটিএর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ টাইগার আইটি নামের প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বড়ো জোর আর পাঁচ দিন মাঠপর্যায়ে চলবে তাদের কার্যক্রম। এর পরই বিআরটিএর বিভিন্ন অফিসে তাদের যে জনশক্তি কর্মরত, তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। ফলে ছবি তোলা, ফিংগারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও সংরক্ষণসহ লাইসেন্সপ্রার্থীদের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ বিআরটিএর ২০২২ সাল পর্যন্ত লাইসেন্স সরবরাহের কথা থাকলেও শর্তে উলি­খিত সংখ্যক লাইসেন্স এরই মধ্যে সরবরাহের প্রাথমিক কাজ করা হয়ে যাবে তাঁদের।

মধ্যবর্তী সংকট মোকাবিলায় প্রায় এক বছর আগে চিঠি দিয়ে বিআরটিএকে আগাম সতর্ক করেছিল টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেড। অথচ বিষয়টি নিয়ে ভাবাই হয়নি। আরো দুঃখজনক বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টির ভবিষ্যত্ চাহিদা ও জোগান নিয়েও কোনো গবেষণা করেননি বিআরটিএ। শুধু অদূরদর্শিতা নয়, দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে বিআরটিএর বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। অথচ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে বিআরটিএর ব্যবস্থাপনা উন্নত করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা না থাকলে তার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা সম্ভব নয়। বিআরটিএর জবাবদিহিতা আছে, এমন কোনো লক্ষণ নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শুভ্র ঘোষ

নতুন বাজার, কলকলিয়াপাড়া, মাগুরা