তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে কষ্ট হচ্ছে। বিচারের রায় নানা রকম হয়। সব বিচারেই ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না বলে অনেক মানুষ মনে করে আদালতে গিয়ে লাভ নেই, ন্যায়বিচার পাব না। নিশ্চয় সেখানে ন্যায়বিচারের ব্যত্যয় ঘটেছে। তাই আইনের শাসন খুবই জরুরি, যা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করবে। শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত নুসরাত হত্যার বিচার নিয়ে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতানা কামাল বলেন, বর্তমানে নারী নির্যাতনের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ। প্রতিদিন আমরা যে হারে নির্যাতনের চিত্র দেখতে পাচ্ছি, তা আমাদেরকে বিচলিত করছে। নারীরা সঠিক বিচার পেলে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ আকার ধারণ করত না। তবে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আজ যারা প্রতিবাদী হয়েছেন তাদের মধ্যে নুসরাতকে আমরা অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখি। বিচারকরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলতে বাধ্য হয়েছেন, নুসরাত হত্যার বিচার যেন তনু হত্যা, মিতু হত্যার বিচারের মতো হারিয়ে না যায়। তিনি বলেন, আইন যখন নিপীড়নমূলক হয়, দমন মূলক হয়, আইন যখন মানুষের কথা বলে না তখন সমাজ মূল্যবোধহীন হয়ে পড়ে। প্রতিটি নির্যাতন প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের অবশ্যই সঠিক বিচার হতে হবে। সুষ্ঠু বিচার হতে হবে। আমরা কোনো শাস্তিমূলক সমাজ দেখতে চাই না। কিন্তু ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ চাই। রাষ্ট্রকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদহীন সমাজ কখনও সামনে এগুতে পারে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নারীর প্রতি বহুমাত্রিক নির্যাতন আমাদেরকে দারুণভাবে শঙ্কিত করে তুলেছে। ধর্ষণ, খুন, ইভটিজিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানিসহ নানা ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়াকে পরাজিত করে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু রাইস, সাংবাদিক তামজীদুল ইসলাম, সাংবাদিক ফাল্গুনী রশিদ, লেখক-কলামিস্ট নিশাত সুলতানা, উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোর্শেদ। —প্রেস বিজ্ঞপ্তি
০
