সুন্দরগঞ্জে বাড়িঘরসহ ফসলি জমি বিলীন

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৭

তিস্তা ও যমুনায় ভাঙন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা ও যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চারটি ও সাঘাটা উপজেলার তিনটি গ্রামের তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা ও উঠতি পাটসহ প্রায় ১০০০ বিঘা জমি বিলীন হয়েছে। এতে ঐসব গ্রামের ৯ শতাধিক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তারা সরকারি পতিত জায়গা, আত্মীয়ের বাড়ি, সড়ক ও ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙনের মুখে পড়েছে আরো অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। এই সাতটি গ্রামের মানুষজনের চোখে-মুখে বিরাজ করছে ভাঙন আতঙ্ক।  

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্ষণ, নদীর পানি বৃদ্ধি ও কমে যাওয়ার সময় নদী ভাঙন দেখা দেয়। পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদী তীরবর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চারটি ও সাঘাটা উপজেলার তিনটি গ্রামের তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা ও উঠতি পাটসহ প্রায় ১০০০ বিঘা জমি তিস্তা এবং যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ঐসব গ্রামের ৯ শতাধিক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তারা সরকারি পতিত জায়গা, আত্মীয়ের বাড়ি সড়ক ও ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। গ্রামগুলো হচ্ছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর, কাপাসিয়া, পুটিমারি ও লালচামার এবং সাঘাটা উপজেলার রামনগর, চন্দ্রনপাট ও কচুয়া।

গতকাল সকালে ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের চোখে-মুখে বিরাজ করছে ভাঙন আতঙ্ক। এ মুহূর্তে এখানে কেউবা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ জিনিসপত্র নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ সড়ক ও বাঁধে নতুন করে বসতি গড়ছেন। 

দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের ভাঙনে নিঃস্ব কৃষক আব্দুস সামাদ মিয়া (৫৫) নিজের ভাষায় বললেন, হামারঘরে বাপ-দাদার ভিট্যা, জমাজমি, বাড়িঘর শোগ (সব) একন পানিত ভাসপ্যার নাগচে। তাই বানদোত আচ্চি। সেই বানদো (বাঁধ) আবার ভাঙ্গি যাবার ধরছে।’

পুটিমারি গ্রামের কৃষক মোত্তালেব মিয়া (৫০) বললেন, গত এক সপ্তাহে তিস্তার ভাঙনে আমার দুই বিঘা জমি, বসতভিটাসহ দুইটি ঘর বিলীন হয়। তাই বাড়ি ভাঙার পর থেকে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর গ্রামের বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

কাপাসিয়া গ্রামের কৃষক কালাম মিয়া (৫৫) নিজের ভাষায় বললেন, কয়দিনে হামারঘরে তিনট্যা ঘর, দুই বিগা জমি ভাঙি গেচে। বানদোত থাকপ্যার জাগা পাই নাই। সাতদিন থাকি হামরা মানসের জাগাত আচি।              

রামনগর গ্রামের মোছা. করিমন বেওয়া (৫৬) জানান, গত এক সপ্তাহের ভাঙনে আমাদের গ্রামের অনেক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

কচুয়া গ্রামের মোছা. আর্জিনা বেগম (৪৫) জানান, বন্যার পানি কমে গেলেও ভাঙনের তীব্রতা দেখে শরীর শিউরে উঠে। এ রকম তীব্র ভাঙন আগে কখনো দেখিনি। ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন আমরা রাস্তায় আছি। কিন্তু কেউ আমাদের কোনো খোঁজ নিল না।

এসব বিষয়ে গতকাল গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ভাঙন রোধে এই মুহূর্তে কোনো কর্মসূচি নেই। তবে নতুন করে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।