পাকিস্তানিরাও বলতে বাধ্য হচ্ছে ‘হামকো বাংলাদেশ বানা দো’:প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ সব দিক থেকে উন্নয়নে এমন নজির স্থাপন করেছে যে, বাঙালি জাতিকে শোষণ করা পাকিস্তানিরাও এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে, ‘হামকো বাংলাদেশ বানা দো (আমাদেরকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও)’। গতকাল রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৬-১৭ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দেশ থেকে আমরা বাংলাদেশকে মুক্ত করেছিলাম, তারা (পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী) এক সময় বলেছিল বাংলাদেশের মানুষ একটা বোঝা স্বরূপ ছিল। চলে গেছে (স্বাধীন হয়েছে) এটা ভালো হয়েছে। অথচ আজকে তারা নিজেরাই ‘বাংলাদেশ’ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়ন কামনা করছে।

যারা স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন সময় কটূক্তি করেছে তাদের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আর তারা বাংলাদেশকে অবহেলার চোখে দেখে না। সম্মানের চোখেই দেখতে হয় যে। দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে যে সম্মান অর্জন করেছে, তা ধরে রাখতে চাই। দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানে আশ্বাস দিয়ে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার ব্যবসা-বান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা করবে, তাদের কাজে আমরা সহযোগিতা করব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্যবসায়ীদেরকে আমি একটাই অনুরোধ করবো, যে শিল্প বা শিল্পাঞ্চল আপনারা গড়ে তুলবেন বা শিল্পোন্নয়ন করবেন পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি আপনাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি প্রতিটি শিল্প এলাকায় একটি করে জলাধার রাখার ব্যাপারে নজর দেয়ার জন্যও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃষ্টির পানি যেন সেখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়। অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এই পানি ব্যবহার করা যাবে। শিল্প এলাকায় একটা জলাধার থাকলে সেখানকার পরিবেশটাও ভালো থাকে।

৬৬ প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানি ট্রফি:দেশের রপ্তানি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৬-১৭’র ২৯টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য এবং ১৬টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’ টানা ৬ষ্ঠ বারের মতো শ্রেষ্ঠ রপ্তানিকারক হিসেবে ২০১৬-১৭ সালের রপ্তানি স্বর্ণ ট্রফি জয় করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য আরো একটি স্বর্ণ ট্রফি লাভ করে। অনুষ্ঠানে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের ওপর একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শিত হয়। রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন পণ্য সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রপ্তানি পণ্য সংযোজনের জন্য পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। সেইসঙ্গে আমাদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেই দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

আমাদের রপ্তানি পণ্যের সম্ভার অতীতের থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের নতুন নতুন অনেক পণ্য এসেছে, যেমন আইসিটি।’ রপ্তানি আরো বাড়াতে নতুন নতুন পণ্য সংযোজন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের জন্য রপ্তানিকারকদের আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের উন্নয়ন বাজেটের ৯০ শতাংশেই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হয়।’  গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক এক শতাংশ; চলতি অর্থবছরে যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক দুই শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।