মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুই আইনে অভিযোগপত্র

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৩

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। দণ্ডবিধি ও শিশু আইনে পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আসামিদের মধ্যে মিন্নিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/২১২/১০৯/১১৪/১২০বি(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আর ১৪ আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শিশু আইনে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ৬৫ দিনের তদন্ত শেষে গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট   মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির।

গত ২২ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। ঐ দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে না পারায় আদালতে জমা দেয়া হয়নি। আদালত ৩ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিলের জন্য পুনরায় দিন ধার্য করে। কিন্তু দুই দিন আগেই আদালতে ৬১৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে বলেছিল, রিফাতকে হত্যার আগে ও পরে প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে ১৩ বার মোবাইলে যোগাযোগ করেছে। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, তিনিই এ হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী। এদিকে আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে গতকাল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে মিন্নিকে স্থায়ী জামিন দেয়।

কোর্ট ইন্সপেক্টর আবদুল কুদ্দুস জানান, মামলার এজাহারে ১২ জন আসামির নাম উল্লেখ থাকলেও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে ২৪ জনের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ জন শিশু। শিশুদের জন্য আলাদা সম্পূরক চার্জশিট প্রদান করা হয়। সোমবার বিচারক দাখিলকৃত অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করবেন।

রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, আমি সন্তুষ্ট মিন্নিকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করায়। সে দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। মামলাটির বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার, পুলিশ আমাদের প্রতি অন্যায় করেছে। গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদি হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। ঐ মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী ছিলেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দুদিন পরে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

২৬ জুন স্ত্রী মিন্নির সামনে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন তাতে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল।

১৫ আসামি গ্রেফতার

রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলো—রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, চন্দন সরকার, রাব্বি আকন, হাসান, অলি, টিকটক হূদয়, সাগর, কামরুল ইসলাম সাইমুন, আরিয়ান শ্রাবণ, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, তানভীর, নাজমুল হাসান, রাতুল সিকদার ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুসা বন্ড, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদারকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।