চট্টগ্রামে গণপরিবহনের বাস চলছে রিজার্ভে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৭

নগরীতে গণপরিবহনের অধিকাংশ বাস চলছে রিজার্ভ ভাড়ায়। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিকদের পরিবহনে সকাল-বিকাল ব্যস্ত থাকে এসব বাস। এতে এই সময়ে প্রতিদিন অফিসগামী ও বাড়ি ফেরা মানুষ নগরীর বিভিন্ন স্টপেজে ভিড় করলেও পরিবহন সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছে কর্মজীবী নানা পেশার মানুষ। পরিবহন মালিক সমিতির একাংশের অভিযোগ, রুট পারমিট নিয়ে গণপরিবহনের এসব বাস বেশি লাভের জন্য রিজার্ভ ভাড়ায় ব্যস্ত থাকায় যাত্রীদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, জনসংখ্যা অনুপাতে বন্দরনগরীতে গণপরিবহনের স্বল্পতা রয়েছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন হাজারো মানুষ নগরীতে আসছে। অনেকেই সকালে এসে বিকালে আবার চলে যায়। ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতকারী মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে গণপরিবহনের বাস-টেম্পু ইত্যাদি। প্রতিদিন সকাল-বিকাল নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় দেখা যায় গাড়ির জন্য শত শত মানুষ ছুটাছুটি করছে। একটি বাস এলেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। যাত্রী অনুপাতে গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে না।

সূত্র জানায়, নগরীতে রুট পারমিট নিয়ে বাস ও মিনিবাস চলাচল করছে ১ হাজার ৫৪৭টি। রুট পারমিট চেয়ে আবেদন করেছে কয়েকশত গাড়ি। হিউম্যান হলার চলছে ১ হাজার ৩১৫টি। টেম্পু চলছে ২ হাজার ২৪৮টি। রুট পারমিট চেয়ে আরো আবেদন করেছে ১ হাজার ৫৬৫টি টেম্পু। রুট পারমিট নেওয়া এসব গাড়ি নিয়মিত চলাচল করলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হতো। কিন্তু অধিকাংশ গাড়ি রিজার্ভ ভাড়ায় ব্যস্ত থাকায় মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুণ-অর-রশিদ হাযারী এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, ‘রুট পারমিটের বাস রিজার্ভ ভাড়ায় চলতে পারে না। বিআরটিএ নিয়ম ভঙ্গের জন্য এসব গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করতে পারে। বেশি লাভের আশায় কিছু গণপরিবহনের বাস শিল্প কারখানার শ্রমিকদের পরিবহনের জন্য ব্যস্ত থাকায় অফিসগামী ও ঘরমুখী বিভিন্ন পেশার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা শুধু জরিমানা করতে পারি।’

এ ব্যাপারে বিআরটিসি চট্টগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম. মনজুরুল হক বলেন, আমরা এসব গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। বাস মালিক সমিতির নেতাদের ডেকে রিজার্ভ ভাড়া বন্ধ করতে বলেছি। তারপরও যদি বন্ধ না করে তাহলে এসব গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করা হবে। নগরীতে যে পরিমাণ গাড়ির রুট পারমিট দেয়া আছে তাতে পরিবহন সংকট হওয়ার কথা নয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন জানান, গণপরিবহনের ৫০ শতাংশ গাড়ি রিজার্ভ ভাড়ায় চলছে। এর ফলে এই সময়ে পরিবহন সংকট দেখা দেয়। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক পরিবহনের জন্য ২০০ গাড়ি ভাড়ায় চলার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি গাড়ি রিজার্ভে চলছে। আমাদের সমিতিভুক্ত আরো নতুন ৮০টি গাড়ি নামানোর প্রস্তুতি চলছে।

চট্টগ্রাম বিআরটিসি কার্যালয়ের আওতায় প্রায় ৫০টি বাস রয়েছে। চট্টগ্রামের ১৩টি রুটে এসব বাস চলাচল করছে। নগরীতে বিআরটিসির মাত্র ৩টি বাস চলাচল করে। ফলে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা বেসরকারি পরিবহন সমিতিগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

জানতে চাইলে বিআরটিসি চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাস ডিপো) মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের বাসগুলো ৭০/৭৫ সিটের। নগরীতে বাস ছাড়াও ছোটো-বড়ো অনেক ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। মানুষ দ্রুত পৌঁছানোর জন্য ছোটো আকৃতির গাড়িকে প্রধান্য দেয়। আমাদের বাসগুলো নগরীর মধ্যে চালাতে গিয়ে লোকসানে পড়তে হয়। তারপরও নগরীতে ৩টি বাস চালু রেখেছি।