কেরানীগঞ্জে ঢাকা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-৪ এর জোনাল অফিস শুভাঢ্যা, হাসনাবাদ, জিনজিরা রোহিতপুর ও কালাতিয়া এলাকায় ইলেকট্রিশিয়ান জাহিদুল ইসলাম ও শাহ আলম তাদের ইউনিয়নভুক্ত ২০০ থেকে ৩০০ ইলেকট্রিশিয়ানকে নিয়ে বিদ্যুত্ অফিসগুলোতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে আর এই সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। গ্রাহকদের বিপাকে ফেলে ইলেকট্রিশিয়ানরা তাদের মর্জি মতো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রাহকদের আবাসিক একটি মিটার পেতে ঢাকা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-৪ কে ডিমান্ড নোট বাবদ ৬০০ টাকা জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও জাহিদ ও শাহ আলমের নেতৃত্বাধীন ইলেকট্রিশিয়ান সিন্ডিকেট প্রতি মিটারের জন্য ৩ হাজার টাকা আদায় করছে বলে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নতুন সংযোগ নিতে, মিটারে লোড বৃদ্ধি করতে এবং মিটার স্থানান্তর করতে চাইলে এ সিন্ডিকেট ১ লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-৪ এর জি এম মাহবুবুর রহমান ও এ জি এম মোজাম্মেল হক জানালেন, জাহিদুল ও শাহ আলমসহ যেসব ইলেকট্রিশিয়ান জোনাল অফিসগুলোতে পেশিশক্তি প্রদর্শন ও গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে তাদের নামের তালিকা ঢাকা-৪ এর জোনাল অফিসে পাঠানো হয়েছে যেন অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানরা বিদ্যুত্ অফিসে ঢুকে কোনো কর্তৃত্ব খাটাতে না পারে। তাদের বিদ্যুত্ অফিসে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ জি এম মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত্ সংযোগের আবেদন গ্রহণ করে থাকি এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন খাতের নির্ধারিত টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা নেওয়া হয়। এখানে কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অনেক গ্রাহক ইলেকট্রিশিয়ানদের মাধ্যমে আবেদন করে ব্যাংকে টাকা জমা দেন। সেক্ষেত্রে ইলেকট্রিশিয়ানরা আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে যে বাড়তি টাকা নিচ্ছে, সে রকম অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে অনেক ইলেকট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সিন্ডিকেটের হোতা জাহিদুল ইসলাম ও শাহ আলমের বিরুদ্ধেও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো জানান, যে কোনো ওয়্যারিং ও সংযোগ লাগাতে ইলেকট্রিশিয়ানদের দ্বারস্থ হন গ্রাহকরা। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানরা বিদ্যুত্ অফিসের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকে। ইলেকট্রিশিয়ানরা ‘বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুত্ ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান ইউনিয়নের’ সদস্য পদ নিয়ে সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে জোনাল অফিসগুলোকে জিম্মি করার চেষ্টা করে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, জাহিদুল ইসলাম হলো ঢাকা বিভাগ ইলেকট্রিশিয়ান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও শাহ আলম ঐ সংগঠনের নির্বাহী সদস্য। তাদের এই পরিচয় ব্যবহার করে এবং ইউনিয়নের প্রভাব খাটিয়ে অনেক গ্রাহককে জিম্মি করে তাদের মর্জিমতো সুবিধা আদায় করছে। তাদের পেশিশক্তির কাছে অনেক সময় অফিস কর্মচারী ও কর্মকর্তারাও জিম্মি হয়ে পড়েন। ইলেকট্রিশিয়ান বিমল চন্দ্র দাসের অভিযোগ, জাহিদুল ও শাহ আলম সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের নামে ঢাকা বিভাগের তিন থেকে চার সদস্যের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলে আত্মসাত্ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহিদুল ও শাহ আলম ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে।
কদমতলী এলাকার এনসিসি ব্যাংকের ম্যানেজার অভিযোগ করে বলেন, তাদের ব্যাংক ভবনে মিটার লাগাতে শাহ আলম দায়িত্ব নিয়ে আবেদন জমা দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করতে থাকে। তার পেছনে দুই মাস ঘুরেও মিটার না পেয়ে পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের জেনারেল ম্যানেজারের দ্বারস্থ হলে মাত্র ২০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে মিটার পেয়ে যান তিনি। কেরানীগঞ্জের আবাসিক, শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা ইলেকট্রিশিয়ান জাহিদুল ইসলাম ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন। এটি করা হলে কেরানীগঞ্জবাসী ইলেকট্রিশিয়ান সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্তি পাবে।
