বে ড়া নো

সাদা পাথরের সুন্দর ভোলাগঞ্জ

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:১০

 

n  নাজমুন নাহার

 

নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও শান্তির শহর সিলেট। এ শহরের চারদিক সবুজে ছাওয়া। আবার সেই সবুজের ভেতরে বয়ে চলেছে স্বচ্ছ জলের নদী। নদীর জল নারীর হূদয়ের মতো স্বচ্ছ ও কোমল আর তলদেশ পাথরে ভরা যেন প্রেমিক হূদয়ের মতো কঠিন।

সিলেটের রাতারগুল, মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড ঝরনা, জৈন্তাপুরের জাফলং ও বিছানাকান্দি, শ্রীমঙ্গলের চা বাগান—সব মোটামুটি ঘোরা শেষ। আমাদের এবারের স্পট ভোলাগঞ্জ। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এর অবস্থান। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে কোম্পানীগঞ্জের শেষ সীমানায়। দলে আমরা চারজন। একটা অটো রিকশা ঠিক করে রওনা দিলাম। সিলেট শহরের বক্ষব্যাধি হসপিটাল মোড় থেকে ১৬০০ টাকা ভাড়ায়। এই পথে কোনো বাস চলাচল নেই। যাতায়াতের একমাত্র বাহন সিএনজি চালিত অটো রিকশা, জনপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা। এর কমবেশিও নেয়।

কোম্পানীগঞ্জের রাস্তায় কাজ হচ্ছে। রাস্তার পাশে অনেকখানি জায়গা নিয়ে হাইটেক পার্ক তৈরি হচ্ছে। এসব দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠল। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছালাম ভোলাগঞ্জের একেবারে সীমান্তে। এখানে একটা কাস্টমস অফিস আছে। ভারত থেকে গ্রানাইট পাথর আমদানি করা হয় এই পথে। শান্ত সবুজ পাহাড়, তার সঙ্গে মিশেছে আকাশের নীল। বর্ষা মৌসুম। আকাশের গায়ে কালো ছোপ ছোপ মেঘ। জায়গাটা খুবই সুন্দর! ঝকঝকে সাদা পাথরের নদী আর ওপারে সবুজ পাহাড়। যদিও পাহাড়গুলো আমাদের নয়। নিচে নেমে নদীর পাড়ে দাঁড়ালাম। নদীর ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা। ভাড়ার চার্ট দেওয়া আছে বোর্ডে। আমরা চারজন একটা পরিবারের সঙ্গে মিলে ৮০০ টাকায় একটা নৌকা ভাড়া করলাম। ঘাট থেকে আধা ঘণ্টার দূরত্বে গিয়ে নৌকা থামাল। মনজুড়ানো সুন্দর একটা জায়গা। দেখেই খুশিতে মন নেচে ওঠে। কী সুন্দর আমাদের এই দেশ!

পাথরের ঘাটে নৌকা বাঁধল। আমরা নেমে কিছুটা পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে আরেকটু ুএগোলাম। এখানেও বিছানাকান্দির মতো ছোট-বড়ো নানা আকারের পাথরের ওপর দিয়ে নদী বয়ে যাচ্ছে। তবে জাফলং বা বিছানাকান্দির চেয়ে এ জায়গাটা অনেক বেশি সুন্দর। আমরা জিরো পয়েন্টে দৃষ্টি প্রসারিত করি, চারদিকে পাথর আর পাথর। এখানে সব পাথরের রং সাদা। তবে এখানে বেশি দর্শনার্থী নেই। নির্জন সাদা পাথরের অসাধারণ এলাকায় আমরা পা রাখলাম। সামনে সবুজ পাহাড়। পাশে পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা প্রচণ্ড স্রোতের স্বচ্ছ শীতল জল। আর সে জল গড়িয়ে চলেছে সাদা পাথরের ওপর দিয়ে। সব মিলিয়ে কী যে এক দৃষ্টিনন্দন রূপ, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

প্রথমে ছোট-বড়ো নানা আকারের পাথরে গড়া পাড়, তারপর অল্প পানি, আবার একটু দূরেই গভীর পানি, সেখানে তরুণেরা সাঁতার কাটছে। ওপারে আবার পাথরের বিচ অনেকখানি জায়গা জুড়ে আওছ। দারুণ দৃষ্টিনন্দন! টুরিস্টরা ঘুরছে যে যার মতো। তরুণেরা হৈ-হুল্লোড় করছে, কেউ পাথরের ওপর বসে আছে। নতুন স্পট, তাই বোধহয় এখনো পরিচ্ছন্ন আছে। আমরা এত টাকা খরচ করে ঘুরতে যাই, কিন্তু যেখানে যাই, সে জায়গাটা পরিচ্ছন্ন রাখি না। আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার। এখানে সেভাবে এখনো খাবার হোটেল তৈরি হয়নি। চিপস, চা আর বাদামই ভরসা। সারাদিনের জন্য এলে খাবার সঙ্গে আনবেন এবং দয়া করে উচ্ছিষ্টাংশ কাগজে মুড়ে সঙ্গে নিয়ে ফিরবেন। এই সামান্য সচেতনতাই পারে দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে, টুরিস্ট স্পটগুলোকে পরিচ্ছন রাখতে।

 

কি ভা বে  যা বে ন

 

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সিলেট শহরের কদমতলী আসতে হবে। কদমতলী থেকে আম্বরখানা পয়েন্টে আসতে হবে। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকেই ভোলাগঞ্জের সিএনজি পাবেন। কদমতলী থেকে নেমে রিক্সায় আম্বরখানা পয়েন্টে যেতে পারেন, ভাড়া পড়বে ৫০ টাকা। এছাড়া কেউ চাইলে সিলেট থেকে টুকেরবাজার পর্যন্ত যাত্রীবাহি বাস অথবা সিএনজি যোগে যাতায়াত করতে পারেন। টুকের বাজার থেকে ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত রয়েছে বেবিটেক্সি সার্ভিস। বিশেষ কোয়ারীতে যেতে হলে নদী তীরে অবস্থিত পোস্টের বিডিআর-এর অনুমতি নিতে হবে। ইঞ্জিন নৌকার ভাড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

 

কো থা য়  থা ক বে ন

 

জেলা পরিষদের একটি রেস্ট হাউস আছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্ববধানে। থাকতে হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া ভোলাগঞ্জ বা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় থাকার জন্য তেমন কোন ভাল ব্যবস্থা নাই।