স্পোর্টস রিপোর্টার
গত বছর নভেম্বরে এই চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল নাঈম হাসানের। অভিষেক ইনিংসেই ঘরের ছেলে পাঁচ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন। এর পরপরই ঢাকা টেস্ট খেললেও লম্বা একটা সময় আন্তর্জাতিক খেলার বাইরে থাকতে হয়েছে। অবশেষে আবার যখন চট্টগ্রামে একটি টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ; স্কোয়াডে আছেন সেই নাঈম হাসান। গতকাল বলছিলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন বিভাগের কোথাও ছাড় দিতে চান না তারা।
নাঈম হাসানের এই টেস্ট স্কোয়াডে থাকাটা একটা আলাদা অর্থও আছে। তামিম ইকবাল বিশ্রামে থাকায় এই স্কোয়াডে চট্টগ্রামের একমাত্র স্থানীয় খেলোয়াড় নাঈম। এই অফস্পিনার অবশ্য সেভাবে ভাবতে চান না। তার মতে, তামিম যেহেতু বিশ্রামে আছেন, তাই তিনি ‘একমাত্র’ নন, ‘তামিম ভাই তো রেস্টে আছেন; ছুটি নিয়েছেন। উনি তো খেলাতেই আছেন। আমি চট্টগ্রামের একমাত্র খেলোয়াড়, এরকম কিছু তাই মাথায় নেই। ডাক পেয়েছি আবার। ভালো লাগছে। তবে চিটাগংয়ে খেলা। আমি এখানকার ছেলে। এখানে খেলব; এটা ভাবতে ভালো লাগে।’
সর্বশেষ খেলা টেস্ট সিরিজেই পাঁচ উইকেট ছিল এক ইনিংসে। এরপরও বল হাতে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে নাঈমের। তিনি বলছেন, এই ফর্ম তাকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে, ‘ভালো বোলিং করলে, উইকেট পেলে কনফিডেন্সটা ভালো থাকে। তবে ওভারকনফিডেন্স না। কারণ, প্রত্যেকদিন খেলায় এলে নতুন একটা দিন। নতুন করে শুরু করতে হয়। আগের পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস দেয়। কিন্তু ওভারকনফিডেন্স হলে তো সমস্যা। আগের পারফরম্যান্স তো এখন সঙ্গে থাকবে না।’
নিজের খেলার দর্শনটা অবশ্য নাঈমের খুব সরল। তিনি বলছিলেন, খেলার প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখাই মূল ব্যাপার, ‘আমি খেলার আগে চিন্তা করি যে, প্রসেসটা ঠিক রাখব। আমি যে প্রসেসে খেলি, যেভাবে নিজেকে তৈরি করি, সেটা ঠিক রাখতে হবে। আর মাঠে নেমে নিজের শতভাগ দিতে হবে। তাহলে ভালো করা সম্ভব।’
আফগানিস্তান দল নিয়ে আলাদা কোনো চিন্তা এখনো নাঈমের মাথায় নেই। বলছিলেন, ‘আফগানিস্তান নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা নেই। আসলে খেলার আগে মিটিং হলে তখন ওনারা (টিম ম্যানেজমেন্ট) বলে দেয় যে, কীভাবে কী করতে হবে। এছাড়া তো নিজের প্রসেস ঠিক রেখে পারফরম করতে হবে। প্রসেসটা ঠিক রাখলে এবং নিজের শতভাগ দিতে পারলে দিনশেষে ফল পাওয়া যায়।’
তবে নাঈম বলছিলেন, আফগানদের কোনো বিভাগেই ছাড় দিতে চান না তারা। নিজেদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘ক্রিকেট খেলায় তিন বিভাগই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই সবাইকে ভালো করতে হবে। কোনোটাতে ছাড় দেওয়া চলবে না। বাংলাদেশ দল এখন ভালো অবস্থায় আছে। এক দিনে সবাই ভালো করতে পারবে, তা না। যে ভালো পারবে, তাকে আরো ভালো করে আসতে হবে।’
নাঈম মূলত বোলার হলেও ব্যাট হাতেও টুকটাক পারফরম করে থাকেন তিনি। সেই ব্যাটিং নিয়ে বলছিলেন, ‘আমি যখনই নামি, যেখানেই নামি; ব্যাট হাতে উইকেটে যাওয়ার সময় আমি চিন্তা করি যে আমি একজন ব্যাটসম্যান। ফলে আমাকে রান করতে হবে।’
